প্রাচীন স্থাপত্য শৈলীর কেন্দ্রীয় মসজিদ সংরক্ষণের দাবি

আকরাম উদ্দিন
শতবর্ষীয় শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংস্কারের অভাবে ছাদ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করে প্রাচীন স্থাপত্য শৈলীর এই মসজিদটি সংরক্ষণের দাবি স্থানীয়দের।
মসজিদের মুল ঘরের ছাদে- দেয়ালে এবং বারান্দার পানি চুষে রং নষ্ট হচ্ছে। এমনকি লিন্টারে, পিলারেও পানি চুষে দাগ পড়েছে। মসজিদের উপরে গম্বুজের কিনারে, বারান্দার ছাদে ময়লা, পরগাছা ও শেওলা পড়ে থাকায় বেশি পরিমাণে বৃষ্টির পানি ছুঁইয়ে ছাদের নিচের ভাগে দাগ পড়েছে।
১৯২৫ সালে তৎকালীন সাব রেজিস্ট্রার হাবিবুর রহমান এই মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তখন তাঁর উদ্যোগে ১ একর (১০০ শতক) সরকারী ভূমি এই মসজিদের নামে দেয়া হয়। পরে ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে মসজিদের কাজ শুরু হয়। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তখন এর নামকরণ হয় ‘সুনামগঞ্জ টাউন জামে মসজিদ’। লোকমুখে এই মসজিদের নাম প্রচার ছিল কোর্ট জামে মসজিদ বা কোর্ট মসজিদ। কারণ এই মসজিদের পাশে ছিল আদালত ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অফিস। আদালতপাড়ায় এবং অন্যান্য কার্যালয়ে আগত
জেলার বিভিন্ন স্থানের মানুষের জমজমাট উপস্থিতি। এ সময় মসজিদে ওই মুসল্লিগণ নামাজ পড়তেন।
আদালত ও অন্যান্য কার্যালয় যখন অন্যত্র চলে যায়, তখন এই মসজিদের নাম প্রচার হয় পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদ। এই মসজিদে তাবলীগওলাদের জেলা পর্যায়ে মারকাজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই মসজিদের পরিচালনা কমিটিতে পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং মসজিদের একজন মুসল্লি হলেন সাধারণ সম্পাদক। কমিটিতে আছেন অন্যান্য সদস্যরাও।
বৃটিশ শাসনামলে নির্মিত এই মসজিদ দেখতে খুবই সুন্দর। সৌন্দর্যে জেলার এক অনন্য মসজিদ। ১৯৯০ সালের দিকে নয় লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই মসজিদের সংস্কার কাজ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. ইয়াকুব আলী, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন নুরুল হক আম্বিয়া। ১৯৯৭ সালে আবারও সংস্কার হয় মসজিদের। তখন সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. নুরুর রব চৌধুরী। এখনও তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরপর প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে মসজিদের উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি।
এই মসজিদের দক্ষিণ পাশের পুকুর ভরাট করে ৪০ শতাংশ জায়গার উপর সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিকমানের আরেকটি মসজিদ। এই মসজিদের কাজ শুরু হয়েছে গত বছরের মার্চ মাসে। দরপত্রের মেয়াদ অনুযায়ী দেড় বছরের মধ্যে এই মসজিদের কাজ শেষ হবে। নতুন মসজিদে ইবাদত-বন্দেগি শুরু হলে পুরাতন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের গুরুত্ব তখন আরও বেড়ে যাবে। পুরো মসজিদটি ধর্মীয় কাজ পরিচালনায় ব্যবহার করা যাবে। হয়তো তাবলীগ জামাতের লোকজনের নিরাপদ ও নির্দিষ্ট এবং অন্যতম কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠবে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঘরের পুরো অংশ।
বৃটিশ শাসনামলে নির্মিত মসজিদের কারুকাজ দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। পুরো মসজিদের ফ্লোর মুজাহিক করা। মসজিদের গুম্বুজগুলোর উপর চমৎকার মুজাহিক করা হয়েছে। ক্বাবা শরীফের সুদৃশ্য চিত্র এঁকে দেয়া হয়েছে মাঝখানের বড় আকারের গম্বুজে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. নুরুর রব চৌধুরী বলেন, আমার আমলে একাধিক বার মসজিদের সংস্কার কাজ হয়েছে। মসজিদে রঙ করানোর কিছুক্ষণ পর হিদলাপড়ার দাগ ভেসে উঠে। রঙ করিয়ে নিজেও তৃপ্তি পাই না। আসলে অনেক পুরাতন এই মসজিদ ও দেয়াল। ছাদের নিচের দিকে জলীয় বাষ্প হয়ে ঘেমে যায়। দেওয়ালেও একই অবস্থা। এই মসজিদের দেয়ালে টাইল্স লাগালে সুন্দর হবে। কিন্তু খরচ লাগবে প্রচুর। এছাড়া নিয়মিত ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য আমরা আগামী বছর জুন মাসে নতুন নির্মিত মসজিদ ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবো। তখন এই পুরাতন মসজিদে কী করা হবে, তা দায়িত্বশীলরা সিদ্ধান্ত নেবেন।