প্রাণের উৎসবে হাজারো প্রাক্তন শিক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার
যেন প্রাণের ছোঁয়া, কেউ পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে ছবি তুলছেন, কেউ গল্প করছেন, দলবেধে ক্যাম্পাস ঘুরছেন কেউবা মঞ্চে স্মৃতি আওড়াচ্ছেন। দিনভর উৎসবে কাটিয়েছেন প্রাক্তনরা। সুনামগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তির আয়োজনে দিনভরই ছিল এমন প্রাণের উৎসব। বিকালে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আগমনে আরও প্রাণবন্ত হয় উৎসব।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ৪৭ কিলোমিটারের মাথায় গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ। ১৯৭২ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা পায়। প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, পাঁচ নম্বর সেক্টরের বেসাসামরিক উপদেষ্টা ভাষাসৈনিক ও তৎকালীন এমএনএ মরহুম আব্দুল হকের নামে।
ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্তিতে সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সমবেত হয়েছিলেন তিন হাজার প্রাক্তণ শিক্ষার্থী। বর্তমান শিক্ষার্থীরাও ছিলেন উৎসবের দর্শক। বর্ণিল আয়োজন ছিল দিনব্যাপী।
সকাল দশটায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সূচনা হয়। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক স্মৃতি ভাস্কর্য্য ও সুবর্ণ জয়ন্তীর ভাস্কর্য্য উন্মোচন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক।
পরে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ান অতিথি ও প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা। এরপর শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনি, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবু নঈম শেখ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড সিলেটের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রমা বিজয় সরকার, জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ্, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রজত কান্তি সোম মানস, পুলিশ সুপার মো এহসান শাহ্, উৎসব উদ্যাপন পর্ষদের আহŸায়ক এবং কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অ্যাড. রাজ উদ্দিন, উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব কলেজ অধ্যক্ষ মো. সুজাত আলী রফিক প্রমুখ।
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বললেন, দেশে যুগান্তকারী উন্নয়ন হয়েছে, প্রত্যন্ত অঞ্চল বলতে কিছু এখন খুঁজে পাওয়া যাবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে যারা হাসাহাসি করেছিল, তারাই এর সুবিধা নিচ্ছে বেশি।
তিনি বলেন, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা যা বলেন, তাই করেন। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে হবে। বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, তারা আবারও জ¦ালাও পুড়াও করতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। দেশের অগ্রগতির পথে কাউকে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। জনগণই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।