দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৯৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৯ টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা দুর্ভাগ্যজনক। এত অধিক সংখ্যক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা দানের পরিবেশ বজায় রাখা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আমরা বুঝতে পারছি, এই উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে ভীষণভাবে। শুধু প্রধান শিক্ষকের বিরাট পদ শূন্যতাই নয় বরং এই উপজেলায় সহকারি শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে অনেকগুলো। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এতদ্বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে ৫৯ প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারি শিক্ষকের ৭৯ টি পদও যুগপৎ শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ উপজেলার প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক মিলিয়ে মোট ১৩৮ টি পদ শূন্য। এই পদগুলো কেন শূন্য রয়েছে। জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ থাকা এবং পদায়নকৃত শিক্ষকের তদবির করে বদলি হয়ে অন্য উপজেলায় চলে যাওয়া এর প্রধান কারণ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া একটি ধারাবাহিক কাজ। এটি প্রতি বছরই হওয়ার কথা। কারণ প্রত্যেক বছরই একটি বড় সংখ্যক শিক্ষক অবসরে গমন করেন। এদের স্থান পূরণ করতে নতুন নিয়োগের বিকল্প নেই। কয়েক বছর নিয়োগ বন্ধ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকগুলো পদ শূন্য পড়ে থাকবে। অনুমান করে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় নিয়োগপ্রক্রিয়া চালু না থাকার কারণে জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও প্রচুর পরিমাণে শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা আমাদের দেশে এমনিতেই কম। সিলেট অঞ্চলে এই আনুপাতিক হার আরও কম। এর উপর পদশূন্যতা যুক্ত হয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের বিষয়টিকে জটিলই করে তোলেছে কেবল। আমরা সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ করতে চাই দ্রুত শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করে এই সমস্যার সমাধান করার জন্য।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ মূলত হাওর অধ্যুষিত ভাটি এলাকা। উপজেলার বিদ্যালয়গুলো দুর্গম। বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শহরে বসবাস করেন। শহরে বসবাস করার কারণে এদের বিদ্যালয়ে সময়মত পৌঁছানো বেশ কষ্টকর। আবার এই শিক্ষকরা বাসায় ফিরে আসতে একটু আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করে থাকেন বলে বলা হয়ে থাকে। সুতরাং শ্রেণিকক্ষে পাঠ দানের জন্য তাঁরা মূলত কতটুকু সময় পান সেটি প্রশ্নস্বাপেক্ষ বটে। গ্রামাঞ্চলে আবাসিক সুবিধাদির অভাবের কারণে শিক্ষকদের গ্রামে থাকার বিষয়টি বাস্তবায়নযোগ্যও নয়। বিশেষ করে এক্ষেত্রে মহিলা শিক্ষকদের অবস্থা অনেকটাই সঙ্গিন। রাস্তা-ঘাটে চলাফেরা করলে সকাল-বিকালে মহিলা শিক্ষকদের গলধঘর্ম হয়ে যাতায়াতের চিত্র এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। এদের পথশ্রমের বিষয়টি অবলোকন করে পথচারীদের অনেককে সহানুভূতি প্রকাশ করতেও দেখা যায়। গ্রামাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই কষ্ট কিছুটা কমবে। সুতরাং গ্রামীণ রাস্তা-ঘাটের উন্নতির সাথেও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত হওয়ার বিষয় জড়িত। এই বিষয়টিও সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে।

