আজ ঘর পাবে ১২১৩ গৃহহীন পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
জেলায় আগামীকাল আরও ১২১৩ জন গৃহহীনকে ২ শতাংশ জমিসহ ঘর দিচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ৩য় ও ৪র্থ পর্যায়ে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিং এই তথ্য জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাসস্থান নিশ্চিতকল্পে সেমিপাকা একক গৃহ নির্মাণের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ‘ক’ শ্রেণির পরিবারের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি নিষ্কন্টক খাস জমি, সরকারিভাবে ক্রয়কৃত জমি সরকারের অনুকূলে কারও দানকৃত জমি অথবা রিজিউমকৃত জমিতে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের প্রকল্পে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষভাবে সংযোজন করা হয় ৪০০ বর্গফুট আয়তনের দুইকক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা একক গৃহ। এই ঘরে সুপরিসর দুইটি কক্ষের সামনে টানা বারান্দা, পেছনে রয়েছে রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারী ল্যাট্টিন। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি রয়েছে নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা। ক্লাস্টারভিত্তিক স্থাপিত প্রকল্প গ্রামগুলোতে সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিনন্দন লে-আউটের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাস্তা, কমিউনিটি সেন্টার, পুকুর, খেলার মাঠ, পার্ক, বাজার এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ প্রভৃতিও নির্মাণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ জেলায় ১ম পর্যায়ে ৩৯০৮, ২য় পর্যায়ে ৩৫৮ এবং ৩য় পর্যায়ে ২ ধাপে ১৫৫৫টিসহ মোট ৫৮২১টি পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় জমি ও গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার ৩য় পর্যায়ের ৩৯১ টি এবং ৪র্থ পর্যায়ের ৮২২ টি সহ মোট ১২১৩ টি পরিবারকে সুনামগঞ্জ জেলায় জমি ও গৃহ প্রদান করা হবে। এছাড়াও জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি জানান, জেলায় তালিকাভূক্ত ৮৪৪৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ৭০৩৪টি পরিবার পুনর্বাসিত হবেন। এছাড়াও আরও ৩৪৪টি পরিবার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যারাকে/গুচ্ছগ্রামে পুনর্বাসিত হয়েছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যারাক/গুচ্ছগ্রাম এবং একক ঘর মিলিয়ে সর্বমোট পুনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ৭৩৭৮টি। তালিকাভুক্ত অবশিষ্ট ১০৬৮ টি পরিবারের মধ্যে দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১৩৯টি গৃহ বাদে বাকি ৯২৯টি ঘরের বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এবং সেগুলোর নির্মাণ কাজও চলমান।