স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওর অঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষার বাঁধ নির্মাণ, মেরামত কাজ অত্যন্ত ধীর গতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। শনিবার তিনি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করে ক্ষুব্ধ হন।
চলতি বোরো মৌসুমে পানি উন্নায়ন বোর্ডের আওতায় বিভিন্ন বাঁধে ১১টি প্রকল্পে ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। এইসব কাজ শেষ হওয়ার শেষ দিন আজ ২৮ ফেব্র“য়ারি। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত উপজেলা ফসল রক্ষার রাঁধের কাজ ২০ ভাগ হয়নি বলে জানা যায়। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কাজে মন্থর গতি, শ্রমিক কম ও প্রকল্পগুলোতে কজের বিবরণী সম্বলিত সাইনবোর্ড লাগানো হয়নি, কাজে চলছে ব্যাপক অনিয়ম।
জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন খরচার হাওর ও আঙ্গারুলী হাওরের কয়েকটি বাঁধ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন,‘বাঁধের কাজে শ্রমিক খুবই কম, কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করে এচিত্র দেখা গেছে। খরচার হাওরের পিআইসি সভাপতি ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিনের প্রকল্পে মাত্র ১৭ জন শ্রমিককে কাজ করতে পাওয়া গেছে। এছাড়া আর কোন প্রকল্পে শ্রমিক দেখা যায় নি।
কৃষি ও কৃষকের ফসল রক্ষার স্বার্থে আরো বেশী করে শ্রমিক কাজে লাগিয়ে দ্রুত ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার জন্য পিআইসি সভাপতি ও পানিউন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে বলেন তিনি।
খরচার হাওর প্রকল্পে-১ এর পিআইসি সভাপতি ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন জানান, তার প্রকল্প বিশ্বম্ভরপুর কবরস্থান থেকে গাছতলা শ্মশানঘাট পর্যন্ত ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামতের জন্য ১৩ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রকল্পে মাত্র ১৭ জন শ্রমিক কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন,‘ আজ ওয়াজের জন্য শ্রমিক কম এসেছে। কাল থেকে শ্রমিক বাড়ানো হবে। সাইন বোর্ডের ব্যাপারে তিনি বলেন, অর্ডার দিয়েছি সাইনবোর্ড তৈরির জন্য। মাটি পাওয়ায় কিছু সমস্যা রয়েছে।’
আঙ্গারুলি হাওর উপ-প্রকল্প ফুলভরী গ্রামের পশ্চিম পাশ থেকে উমেদপুর গ্রামের ও রাজনগরের মধ্যে ভাঙ্গাবাঁধ বন্ধকরণ ও মেরামতের জন্য ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি আশিষ পুরকায়স্থ বলেন,‘আমার প্রকল্পে ৪৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছে। তিনিও একই অজুহাতে দেখিয়ে বলেন, ওয়াজের জন্য আজ শ্রমিক কম এসেছে। এছাড়াও এলাকায় কিছুটা শ্রমিক সংকট রয়েছে, তবে ২/৩ দিনের মধ্যে আরো বেশী শ্রমিক লাগিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে। তিনি দাবি করে বলেন, এ পর্যন্ত ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ফসল রক্ষার বাঁধ বাস্তবায়নের জন্য পিআইসিগণকে জোড় তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সময়মত কাজ না হলে বিল পরিশোধ করা হবে না ।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী দিপক দাশ বলেন,‘ফসল রক্ষার বাঁধাগুলো বাস্তবায়নের জন্য পিআইসিকে জোড় তাগিদ ও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এব্যাপারে তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত এসওগণকে বেশী বেশী তদারকি করার নির্দেশ রয়েছে।’
উপজেলার ঘাগটিয়া রাবার ড্যাম্প পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আ. গনি আনছারী বলেন,‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে নানা অনিয়ম হচ্ছে। কাজের গতি মন্থর, তাছাড়া খরচার হাওর প্রকল্পে দুই একটি স্থানে বাঁধের গুড়া থেকে মাটি কাটা হচ্ছে।’
পদ্মনগর গ্রামের কৃষক বদরুদোজা ও অরুন দেবনাথ বলেন, ‘আমরা এক ফসলী বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল। বহু কষ্টে বোরো ধান চাষাবাদ করেছি। এবছর সময়মত বৃষ্টি হওয়ায় ভাল ফসলের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাঁধের কাজ সময়মত না হওয়ায় ফসল রক্ষা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় আছি।’


