ফসলহারা কৃষকদের বিক্ষোভ

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জের হালির হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ফসল ডুবির ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ কৃষকরা উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে। গত মঙ্গলবার দুপুরে হালির হাওর পাড়ের কয়েক হাজার কৃষক পাউবো, পিআইসি ও সিন্ডিকেট ঠিকাদারদের শাস্তির দাবীতে প্রায় ঘন্টাব্যাপী উপজেলা পরিষদ চত্তর ঘেরাও করে রাখে।
ফসল হারা বিক্ষুদ্ধ কৃষকরা তাদের শাস্তির দাবিতে নানান শ্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে। বিক্ষুদ্ধ কৃষকদেরকে শান্তনা দিতে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী তাদের কাছে এলে তারা ১৫ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন।  
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজশে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে দায়িত্বশীল পিআইসি ও     
ঠিকাদাররা অবহেলা ও দুর্নীতি করায় দেড় শ’ কোটি টাকার ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এই ব্যাপারে হালির হাওর পাড়ের লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।
দাবীগুলোর মধ্যে রয়েছে, জামালগঞ্জ উপজেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা, দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও পিআইসিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কৃষকদের কাছে সরকারি-বেসরকারি ও এনজিও সংস্থার নিকট থেকে নেয়া ঋণ সহ সকল ঋণের সুদ মওকুফ করা। অসহায় কৃষকদের জীবন জীবিকার তাগিদে সুদমুক্ত নতুন ঋণ প্রদান করা। চাল, আটাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা। বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে হাওরের বেড়ীবাধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা। হাওরের গুরুত্বপূর্ণ ভরাট হয়ে যাওয়া বৌলাই, কানাইখালী, দৌলতা নদীগুলো খনন প্রকল্প গ্রহণ করা । প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আনা। চলতি বছরে সরকারী খাজনা স্থগিত রাখা। আগামী বছরে হাওরের বাঁধ ও নদী খনন প্রকল্প গ্রহণের জন্য স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধিদের পরামর্শকে প্রাধান্য দিতে উপজেলা পর্যায়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা। প্রতিবছর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তদারকি নিশ্চিত করা। প্রত্যেক বছর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে গণমাধ্যম কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। বন্যাদুর্গত এলাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় সর্বদা পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ করা। কৃষকের গবাদিপশুর খাবার ও চিকিৎসার সহায়তা করা।
উপস্থিত কৃষকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবী উপস্থাপন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী। ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে কৃষকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ, লম্বাবাক গ্রামের কৃষক সবর আলী, আব্দুল খালেক, রজব আলী, শহীদুল ইসলাম, আবুল কালাম, মোবারক আলী, আলী আক্কাছ মুরাদ প্রমুখ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন,‘ কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তা কোন কিছুর বিনিময়ে পোষাণো সম্ভব নয়। কৃষকদের সকল দাবি পূরণে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে ও বাঁধ ভাঙ্গার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’