অবশেষে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ সংস্কার/নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের একটি সংশোধিত নীতিমালা জারি করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই পিআইসি গঠন করবেন। প্রয়োজনে তিনি এ কাজে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এর পরামর্শ নিতে পারেন। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিনি স্কিম ও পিআইসি গঠনের কাজ শেষ করবেন। বাঁধের কাজ শুরু হবে ১৫ ডিসেম্বর, শেষ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাক্রমে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে শক্তিশালী বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। পিআইসিতে সংসদ সদস্যের মনোনয়ন প্রথা রহিত করে বাঁধ এলাকার কৃষকদের কমিটিতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবেন। পাউবো থেকে বাঁধের বরাদ্দ সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুকূলে অবমুক্ত করা হবে। নতুন নীতিমালায় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো, নতুন নীতিমালা হাওরের ফসল রক্ষা তথা বাঁধ নির্মাণ কাজে দুর্নীতি বন্ধে কতোটা ভূমিকা রাখতে পারে। গত মৌসুমে ব্যাপক ফসল হানি ও হাওরের বাঁধ নির্মাণে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে বাঁধ নির্মাণ/সংস্কার নীতিমালা সংশোধনের জন্য ব্যাপক দাবি উঠেছিল। এইসব দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার অবশেষে প্রথম পরিবর্তনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করলেন। এখন পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রথার বিষয়ে নতুন নীতিমালায় কোন কিছু দেখা যায় নি। তবে জেলা প্রশাসক, জামালগঞ্জের একটি মতবিনিময় সভায় বলেছেন, যেখানে ঠিকাদার পাওয়া যাবে না সেখানে পিআইসি’র মাধ্যমে কাজ করানো হবে।
হাওরের নীতিমালার চাইতেও কৃষকের বড় চিন্তার বিষয় হলো তার জমিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করা। কৃষকের চাহিদা হলো, সরকার হাওরের ফসল রক্ষায় যে বরাদ্দ দিয়ে থাকেন তার যথাযথ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। ফসল রক্ষার টাকা যাতে ব্যক্তি বিশেষের লুটপাটের মৃগয়াক্ষেত্রে পরিণত না হয় সেটি হলো নাগরিক সমাজের আকাক্সক্ষা। এই চিন্তা, চাহিদা ও আকাক্সক্ষা কোন নীতিমালার আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এটি তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। মূলত কাগজে-পত্রে কোন নীতিমালাই খারাপ নয়। এর সাথে জড়িত নানা পর্যায়ের ব্যক্তিরা এটিকে খারাপ করে ফেলেন। নতুন নীতিমালার ক্ষেত্রেও এই আশঙ্কাটি একেবারে ঝেড়ে ফেলা যাচ্ছে না। তবে যেহেতু একটি বড় বিপর্যয়ের পর এটি এসেছে এবং এই জায়গায় অন্তত এই বছর বহু পক্ষের নজরদারি থাকবে তাই নতুন নীতিমালাটি অনেকটাই নাগরিক আকাক্সক্ষা পূরণে সমর্থ হবে বলে আশা করা যায়। তবে এক বছরের জন্য নয়, আমরা কামনা করি হাওরের ফসল রক্ষার কাজটি প্রতিবছরই যাতে দুর্নীতি ও প্রভাবমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হয় তা স্থায়ী করণ।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আমরা ধন্যবাদ জানাই। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আমাদের সবিনয় অনুরোধ, আপনারা সময় মতো সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে নির্দিষ্ট তারিখ ১৫ ডিসেম্বরই যাতে বাঁধের কাজ শুরু করা যায় সেটি নিশ্চিত করুন। বিভিন্ন কমিটিতে সৎ, যোগ্য ও নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করুন যাতে তারা বাঁধের কাজ শতভাগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।

