বিন্দু তালুকদার
তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া-চারাগাঁও ও বাগলী শুল্কস্টেশন দিয়ে চার মাসের জন্য ফের চালু হলো কয়লা আমদানি। আগামী চার মাস বাংলাদেশের কয়লা ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে কয়লা আসদানি করতে পারবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ফিতা কেটে ভারত থেকে আসা কয়লা আমদানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের সভাপতি আলকাছ উদ্দিন খন্দকারসহ গ্রুপের নেতৃবৃন্দ। ভারতের মেঘালয় মাইন ওনার্স এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন এবং তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে প্রথম দিনে এই শুল্কষ্টেশন দিয়ে ৯টি ট্রাকে ৯৯ টন কয়লা আমদানী হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, গ্রুপের উপদেষ্টা ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খান, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, সিনিয়র সহ সভাপতি ফরিদ গাজী, অর্থ সম্পাদক জাহের আলী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আবুল খায়ের, গিয়াস উদ্দিন খন্দকার, ছিদ্দিক মিয়া, আবু সাঈদ, কার্যকরী সদস্য ইউনুছ আলী, হাসান মিয়া, সচিব রাজেশ তালুকদারসহ গ্রুপের সকল সদস্যগণ। এসময় রপ্তানীকারক সমিতি ভারত এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি নাসার সিং মারউইন, সেক্রেটারী বায়েস্কীন।
প্রসঙ্গ, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে কয়লা আমদানি শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে গত মে মাসের শেষে দিকে আবারো কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েন প্রায় ৫শত’ কয়লা আমনদানিকারক। এছাড়াও কর্মহীন হয়ে পড়েন আমদানিকারদের প্রায় ৬ হাজার কর্মচারি ও প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। এছাড়াও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩টি বন্দরের অর্ধলক্ষ মানুষ। পুনরায় কয়লা আমদানি শুরু হওয়ার খবরে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে বইছে খুশির হাওয়া।
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সচিব রাজেশ তালুকদার জানান, তাহিরপুর সীমান্তের শুল্কস্টেশন দিয়ে আসা কয়লার মান ভাল, চাহিদাও বেশী। পুনরায় কয়লা আমদানি শুরু হওয়ায় সবার মুখে হাসি ফিরেছে।’
রাজেশ তালুকদার বলেন,‘ ভারতের কয়লা ব্যবসায়ীরা কয়লা রপ্তানীর জন্য সে দেশের ন্যাশনাল গ্রীণ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আরো চার মাসের জন্য কয়লা রপ্তানী করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। এই নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ভারতের ব্যবসায়ীদের চতুর্থবার কয়লা রপ্তানীর আদেশ দিল। এর আগে ওই ট্রাইব্যুনালের আদেশেই কয়লা রপ্তানী বন্ধ ছিল। ’
তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের বলেন,‘ তাহিরপুরের ৩ বন্দর এবং ভারতের এই দিকের রপ্তানীকারকরা গত ৫ জানুয়ারি থেকে সক্রিয় হয়েছিলেন। দেশের অন্যদিক দিয়ে এই সময়ে ইন্দোনেশিয়া, চীন এবং আফ্রিকার কম দামের কয়লা আসলেও তাহিরপুর সীমান্তের শুল্কস্টেশন দিয়ে আসা কয়লার মান ভাল থাকায় দেশজুড়ে এই কয়লার চাহিদা ছিল।’
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা
- নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে


