ফেয়ার প্রাইজ কার্ড নিবন্ধনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের মাঝে পনের টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণের জন্য ফেয়ারপ্রাইজ কার্ডের অনলাইন নিবন্ধনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হুমায়ূন কবির ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আরজা খাতুন এই টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ ওেেঠছে।
ভোক্তভোগীরা জানান, কারো কাছ থেকে পাঁচশত টাকা, কারো কাছ থেকে চারশত পঞ্চাশ টাকা এবং কারো কাছ থেকে তিনশত পঞ্চাশ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। রবিবার সাংবাদিকদের সামনে পেয়ে সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের নিরদ করের ছেলে নিরঞ্জন কর বিষয়টি জানালে ইউপি সদস্য আরজা খাতুন তার ৩৫০ টাকা ফিরিয়ে দেন এবং বলেন, তোমার কার্ড হবে না।
জানা যায়, সামাজিক খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকার অতিদরিদ্র পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল বিতরণের কর্মসূচি নিয়েছে। এর আওতায় সদর ইউনিয়নে ফেয়ারপ্রাইজ কার্ড পাওয়া গেছে ১ হাজার ১৩৭টি। সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তর ঘোষণা দেয়- কার্ডগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল কেন্দ্রে উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। প্রতি কার্ডের জন্য উদ্যোক্তা ১৫ টাকা করে পাবে। যা খাদ্য অদিদপ্তর পরিশোধ করবে।
সরজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সাবিকুন্নেছা, জাহানা বেগম, আক্তার বানু, নিরদ কর, শেফালী বেগম, রোকেয়া বেগম সহ অর্ধশতাধিক লোক অনলাইন নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ইউপি সদস্য আরোজা বেগম ও উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবিরের সামনে তারা জানান, নিবন্ধনের জন্য প্রতিকার্ডধারীদের কাছ থেকে ৫০০, ৪৫০ ও ৩৫০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।
উদ্যোক্তা হুমায়ূন কবির জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি কার্ডধারীদের নিকট থেকে পঞ্চাশ টাকা করে নেই। এখন থেকে আর নেব না।
ইউপি সদস্য আরজা খাতুন কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া যায় নি।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, প্রতিটি গ্রামে গ্রামে দালালদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দরিদ্র অসহায় মানুষদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় করা হচ্ছে। আর বদনামের ভাগী হচ্ছি আমরা। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে দালাল চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদে থাকাকালীন সময় কোন টাকা নেওয়া হয় নাই। আমি চারদিন হয় ঢাকা এসেছি। এসময় কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। তিনি বলেন, ভাই পঞ্চাশ টাকা করে নেওয়া মানানসই। কিন্তু ৪০০, ৫০০ করে টাকা নেওয়া তো ডাইরেক্ট হারাম খাওয়া।
এ ব্যপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাব উদ্দিন জানান, প্রতিটা কার্ড অনলাইনে নিবন্ধন করার জন্য সরকার উদ্যোক্তাকে পনের টাকা করে দেবে। কার্ডধারী কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া যাবে না।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ^জিত দেব বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে কার্ডধারী নিকট থেকে কোন টাকা নেওয়ার কথা নয়। কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে এবং প্রমাণিত হয় তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।