স্টাফ রিপোর্টার
বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার মল্লিকপুর খাদ্যগোদামের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বুধবার দুপুরে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সুনামগঞ্জের একটি দল এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। তবে নষ্ট বিদ্যুৎ মিটারে বাস্তবতার চেয়ে অতিরিক্ত বিল আসার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিল দেয়া যাচ্ছে না বলে জানায় খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ।
খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিটার বদল করে বিলে সামঞ্জস্যতা এনে দেয়ার জন্য বিদ্যুৎ অফিসকে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারপরও বিল ঠিক করা হয় নি।
বকেয়া থাকলে আমার অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর থেকে বিল পরিশোধে কঠোর অবস্থানে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে যে কারো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা জানিয়েছেন তারা। চলমান অভিযানে সরকারি অফিস, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোরও সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ কাজ চলছে। মল্লিকপুর খাদ্যগোদামসহ ইতিমধ্যে ষোললঘর, নবীনগর, বনানীপাড়া, বড়পাড়া, বাঁধনপাড়ার ধর্মীয় মসজিদ মন্দিরের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মল্লিকপুর এলএসডি ২০১৮ সাল থেকে দীর্ঘ ৪ বছর কোনো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। ৪ বছরে তাদের কাছে বকেয়া জমা হয়েছে ৬ লক্ষ ৩৯ হাজার ৯২ টাকা। এই টাকা পরিশোধে বার বার নোটিশ দিলেও আমলে নিচ্ছে না খাদ্য বিভাগ। টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মল্লিকপুর খাদ্য গুদামের বিদ্যুৎ সংযোগ বুধবার বিচ্ছিন্ন করা হয়।
মল্লিকপুর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম বললেন, আমাদেরকে না জানিয়েই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে জানানো উচিত ছিলো। বিদ্যুতের কারণে যদি সরকারের কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে। বকেয়ার ব্যাপারটি ৪ বছর আগে থেকে হচ্ছে। আমি যতটুকু জেনেছি, বিলের মধ্যে সমস্যা থাকায় বিল পরিশোধ হচ্ছে না।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নকিব সাদ সাইফুল ইসলাম বললেন, যে পরিমাণ টাকা বকেয়া হয়েছে, সেটা দেয়ার মতো টাকা ফান্ডে নেই, বিদ্যুৎ বিলের টাকা দেয়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে চিঠি দেয়া হয়েছে। ফান্ড আসলেই বিল পরিশোধ করা হবে। এছাড়াও পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য বিদ্যুৎ অফিসকে চিঠি দেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো মশিউর রহমান বলেন, এলএসডি মিটারে সমস্যা আছে, এধরণের কোনো চিঠি আমরা পাই নি। যেটা পেয়েছি, সেটা হলো বিল কমানোর চিঠি। সরকারি একটা প্রতিষ্ঠানে এতো বছর ধরে বিল বকেয়া আছে। আমরা বার বার বিল পরিশোধ করতে নোটিশ দিয়েছি। ব্যর্থ হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছি। টাকা পরিশোধ করলে বা ফান্ড প্রদানের চিঠি আমাদেরকে দেখালে পুনরায় সংযোগ দেয়া হবে।


