স্টাফ রিপোর্টার
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সিলেটে গণসংযোগে আসতেন তখন তাদের সফরসঙ্গী হতেন বাউল আব্দুল করিম। ১৯৬৭ সালে শেখ মুজিব পাকিস্তানের দুর্নীতিদমন মন্ত্রী থাকাবস্থায় সুনামগঞ্জে প্রথম সরকারি সফরে আসেন। শাহ আব্দুল করিম এই জনসভাস্থলে এসে গান করেন।
১৯৬৯ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে করিমের গণসংগীত শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে শেখ মুজিব মাইকে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, শেখ মুজিব বেঁচে থাকলে করিম ভাইও বেঁচে থাকবেন, করিম ভাই যেখানে শেখ মুজিব সেখানে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবের ভাটি অঞ্চলের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে একমাত্র মধ্যমণি ছিলেন শাহ আব্দুল করিম। ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা যখন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালাতে ভাটি অঞ্চলে আসেন তখন তার সফরসঙ্গী ছিলেন শাহ আব্দুল করিম।
১৯৯৫ সালে শেখ হাসিনা দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় শাহ আব্দুল করিমকে বলেছিলেন, আমার বাবা যার গানের ভক্ত ছিলেন, আমি তাকে উপযুক্ত সম্মান দেব।
২০০১ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে এক কর্মীসভায় বলেছিলেন, সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় শাহ আব্দুল করিমের ভূমিকা অন্যতম। শাহ আব্দুল করিম ৫৪ এর নির্বাচন, ৬৯ এর গণআন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি পর্যায়ে স্বরচিত গণসংগীত পরিবেশন করে জনতাকে দেশ মাতৃকার টানে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করেছেন।
ভাটি বাংলার রাজধানী সুনামগঞ্জের সাথে বঙ্গবন্ধুর ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সুনামগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর বহু রাজনৈতিক সহচরের জন্ম। ১৯৭৩ সালের ৫ মার্চ দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকের মাঠে বাঁধভাঙা জোয়ারের মত জনতার ঢল নেমেছিল বঙ্গবন্ধুকে দেখার জন্য। হেলিকপ্টারে চড়ে এলেন বঙ্গবন্ধু। বাংলার মুকুটহীন রাজার পরনে সেই চিরপরিচিত পোশাকÑ সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি আর মুজিব কোট। নির্ধারিত সময়ের মিনিট খানেক আগেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শেষ হয়। বঙ্গবন্ধু ভাষণ শেষ করে মঞ্চ থেকে নামবেন এমন সময় ঘোষণা এলো এখন গান গাইবেন বাউল শাহ আব্দুল করিম। এমন সময় নেতা ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘করিম গান গাইবে আর আমি চলে যাবো তা হয় না গান শুনেই যাবো’। আবার এসে বসলেন মঞ্চে বঙ্গবন্ধু। প্রিয় শাহ আব্দুল করিম কে সেদিন পাঁচশত টাকা সম্মানী দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।


