স্টাফ রিপোর্টার
আজ ১৭ মার্চ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। ১৯২০ সালের আজকের দিনটিতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম এই ক্ষণজন্মা মানুষের। জাতি দিনটিকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে উদযাপন করবে। আজ সরকারি ছুটি।
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। ‘শিশু গড়বে নতুন দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় থাকবে শিশু সুরক্ষায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বুধবার বিকাল ৪টায় সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ কালেক্টরেট চত্বরে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে’ অস্থায়ীভাবে স্থাপীত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহরের শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন সময়ের স্থিরচিত্র নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সকাল ১০.১৫মি. জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আবুল হোসেন মিলনায়তন পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র্যালি ও শিশু সমাবেশ, বেলা ১১টায় শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ, শিশু সনদ ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, সুবিধাজনক সময়ে মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে মিলাদ মাহফিল ও প্রার্থনা, বাদ যোহর শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পৌর বিপনী চত্বরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলো সকালে কালেক্টরেট চত্বরে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে’ অস্থায়ীভাবে স্থাপীত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে। পরে শহরের প্রিয়াঙ্গন কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিয়েছে নানার কর্মসূচি।
বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্ম ও রাজনৈতিক জীবন অসামান্য গৌরবের। স্কুলজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কৈশোরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র থাকাবস্থায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন। ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তৎকালীন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন। ওই সময় থেকে নিজেকে ছাত্র-যুব নেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বঙ্গবন্ধু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, আটান্নর আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন ও বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানি সামরিক শাসনবিরোধী সব আন্দোলন-সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন। বাঙালির অধিকার আদায়ের এসব আন্দোলনের কারণে বারবার তাকে কারাবরণ করতে হয়।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাকে। আওয়ামী লীগ প্রধান হিসেবে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন তথা বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে তাদের কারাগারে পাঠান। ঊনসত্তরের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি শেখ মুজিবকে কারামুক্ত করে ‘বঙ্গবন্ধু’র মর্যাদায় অভিসিক্ত করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট লাভ করে আওয়ামী লীগ; কিন্তু পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনী বিজয়কে মেনে নেয়নি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলন এবং চূড়ান্ত পর্বে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দেন।
এ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মার্চে নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এ ভাষণে সেদিন স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে বীর বাঙালি একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। সদ্য স্বাধীন দেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কাজে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তিনি জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে নিজ বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হন তিনি।
- ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে চন্দ্রনাথ হাইস্কুল একধাপ এগিয়ে -জেলা প্রশাসক
- রেগুলেটর টেম্পারিং করায় বলাকা সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ


