‘ বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ছিলেন একে অপরের পরিপূরক’

লন্ডন প্রতিনিধি
বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব-এর ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শনিবার বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডন আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় Bangamata Sheikh Fazilatunnesa Mujib: A Symbol of Sacrifice, Courage and Dut শীর্ষক এক স্মারক অনুষ্ঠান। এতে ব্রিটেন ও বাংলাদেশ থেকে আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীমের সভাপতিত্বে স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এবং উপমহাদেশের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও লেখক সেলিনা হোসেন।
স্মারক অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রথিতযশা সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, ব্রিটেনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রবাসী সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় সদস্য সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক ও ব্রিটেন প্রবাসী ও বঙ্গমাতা বেগম মুজিবের সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক হালিমা বেগম আলম।
এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবীণ ও নবীন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ওয়েবিনারের মাধ্যমে বঙ্গমাতার প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
স্মারক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু যেমন সমার্থক, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতাও তেমনি সমার্থক। তাঁরা ছিলেন একে অপরের পরিপূরক। বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রতিটি ঘটনার সাথে বঙ্গমাতা ওতোপ্রোভাবে জড়িত ছিলেন। বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণসহ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটময় মূহুর্তে বঙ্গমাতা পরামর্শক ও দিক-নির্দেশকের ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর প্রেরণাতেই বঙ্গবন্ধু কারাগারে থেকেও মহামূল্যবান দুটি বই লিখেছেন। বঙ্গমাতা সে সময় ছাত্র রাজনীতির ক্ষেত্রেও ছিলেন অসীম প্রেরণার উৎস। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পিছনে তাঁর সক্রিয় সমর্থন ছিলো।
বঙ্গমাতার চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রসঙ্গে সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে বঙ্গবন্ধুর দেয়া এক সাক্ষাতকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ২৫ মার্চের কালোরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কামানের প্রচন্ড গোলাগুলির মধ্য দিয়ে যখন আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় তখনোও আমার স্ত্রী ছিলেন অবিচল। বঙ্গমাতা ছিলেন তেমনিই একজন মা যিনি বাঙালি জাতিকে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রেহানার মতো রতœসম সন্তান উপহার দিয়েছেন।
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে বঙ্গমাতার জীবনীসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেন।
আছেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ম্যাক্সিম গোর্কির ‘‘মা” উপন্যাসের মায়ের সঙ্গে বঙ্গমাতার তুলনা করে বলেন, “গোর্কির মায়ের মতোই বঙ্গমাতাও বাঙালি জাতির মায়ের ভূমিকায় অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন।

স্মারক অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতাকে উৎসর্গ করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সিনিয়র সাংবাদিক উর্মি মাযহার কবি অপূর্ব শর্মার একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গমাতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ও তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া করা হয়। এরপর বঙ্গমাতার জীবনের ওপর একটি প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
স্মারক অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ জুলকার নাইন, মিনিস্টার (কনস্যুলার) মো. লুৎফুল হাসান, সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাহবুবুর রশীদ, মিনিস্টার (প্রেস) আশিকুন নবী চৌধুরী, মিনিস্টার (পলি্িটক্যাল) এ,এফ,এম, জাহিদুল ইসলাম, কমার্শিয়াল কাউন্সিলার এস, এম, জাকারিয়া হক, কাউন্সিলার (পলিটিক্যাল) দেওয়ান মাহমুদুল হক, কাউন্সিলার ও দূতালয় প্রধান স্বদীপ্ত আলম, সহকারী সামরিক উপদেষ্টা লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা) এ,এফ, এম, ফজলে রাব্বী, প্রথম সচিব (পলিটিক্যাল) মাহফুজা সুলতানা, প্রথম সচিব (পলিটিক্যাল) এ,কে,এম, মনিরুল হক ও এ্যাটাসে (কনস্যুলার) এইচ, এম, ফয়সাল আহমেদসহ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।