সু.খবর ডেস্ক
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী আফম মুহিতুল ইসলাম (৬৩) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে সমকালকে জানিয়েছেন তার নাতি আসিফুর রহমান রাজীব।
কিডনির সমস্যা নিয়ে গত মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মুহিতুল ইসলাম। এছাড়া তিনি নিউমোনিয়ায়ও আক্রান্ত ছিলেন। গত ১০ আগস্ট থেকে বিএসএমএমইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।
আসিফুর রহমান রাজীব জানান, বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুহিতুল ইসলামের মরদেহ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কাশিমপুরে তার গ্রামের বাড়িতে নেয়া হবে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
তার স্বজনেরা জানায়, গত মাসে মুহিতুল ইসলাম কিডনির সমস্যা নিয়ে বিএসএমএমইউর নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলমের অধীনে ভর্তি হন। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি হলে তাকে কেবিনে নেয়া হয়। ফের অবস্থার অবনতি হলে গত ২৬ জুলাই আবারও আইসিইউতে নেয়া হয় এবং মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তার রিসিপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ ছিলেন মুহিতুল ইসলাম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের সময় তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতেই ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকান্ড স্বচোখে দেখেছেন তিনি।
১৯৭৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন মুহিতুল ইসলাম। পরে ‘৭৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেসিডেন্ট পিএ হিসেবে ধানম-ি ৩২ নম্বরের ৬৭৭ নম্বর বাড়িতে কাজ শুরু করেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের বাধা কেটে যাওয়ার পর ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় মামলা করেন মুহিতুল ইসলাম। মামলায় আসামি ছিল ২০ জন। ওই মামলার বিচার শেষে মৃত্যুদ- পাওয়া পাঁচ আসামির দ- কার্যকর হয়েছে। তবে দ-িত কয়েকজন এখনও পলাতক।


