বছরজুড়ে খুন-সংঘর্ষে ৩২ মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার
২০২১ অনেক নির্মম ও মর্মান্তিক খুন ও সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এসব ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। সবচেয়ে বেশী ৬টি হত্যাকা- ও সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে জেলার ছাতক উপজেলায়। এছাড়াও শান্তিগঞ্জ, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, দিরাই উপজেলায় ৪টি করে, জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলায় ৩টি করে এবং ধর্মপাশা উপজেলায় হত্যা ও সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এছাড়াও বছরজুড়ে বিভিন্ন উপজেলায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৭০৮ জন। ঘটনা বহুল বছরের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।
বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন
৪ ফেব্রুয়ারি বিকালে ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের জামুরাইল গ্রামে পারিবারিক কলহে বড় ভাই’র হাতে ছোট খুন হন। ঐদিন দুই ভাইয়ের স্ত্রীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে স্ত্রীদের পক্ষ নিয়ে উভয় ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে বড় ভাই সমুজ মিয়ার (৬০) বল্লমের আঘাতে ছোট ভাই পারভেজ মিয়া গুরুতর আহত হয়। আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্ত্রী’র হাতে স্বামী খুন
জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে দ্বিতীয় স্ত্রীর লাঠির আঘাতে এক দিনমজুর মো. আলেক মিয়া (৬৫) খুন হন। ৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ১০ টা থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১০ টার মধ্যে কোন এক সময় তিনি খুন হন। ঘটনার পর দ্বিতীয় স্ত্রী পালিয়ে যায়।
ছুরিকাঘাতে খুন
২৫ ফেব্রুয়ারি শান্তিগঞ্জের জয়কলস গ্রামে ছুরিকাঘাতে দিপু বিশ^াস (৪০) নামের এক ব্যক্তি খুন হন। জানা যায়, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ধরেরগাঁও গ্রামের রন বিশ^াস দীর্ঘদিন ধরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামে তার শ^শুর বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বাস করছিলেন। তিনি প্রায়ই তার স্ত্রী শেফালী বিশ^াসকে মদ পানের টাকা চেয়ে মারপিট করতেন। স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্ত্রী শেফালী বিশ^াস দিপু বিশ^াসকে সাক্ষী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে রন বিশ^াস ক্ষুব্ধ হন দিপু বিশ^াসের উপর। ঐদিন সন্ধ্যায় বিশ^াসপাড়া এলাকায় দিপু বিশ^াস প্রশ্রাব করতে বসলে পেছন থেকে রন বিশ^াস চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন।
কিশোর খুন
শান্তিগঞ্জ উপজেলার মুক্তাখাই পয়েন্টে মুক্তাখাই গ্রামের আজাদ মিয়ার ফার্নিচারের দোকানে কাঠমিস্ত্রী ছাতক উপজেলার বড়কাপন গ্রামের সায়মন মিয়া (২৫) এর সহকারি হিসাবে কাজ করতো শিমুলবাঁক ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের ইমন আহমদ (১২)। ২৩ মার্চ মঙ্গলবার রাতে দোকান মালিক আজাদ মিয়ার বাড়িতে খাবার খেয়ে কাঠমিস্ত্রী সায়মন মিয়া ও নিহত কিশোর ইমন আহমদ দোকানে এস ঘুমিয়ে পড়ে। রাতের কোন এক সময়ে কাঠমিস্ত্রী সায়মন মিয়া কিশোর ইমন আহমদকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
দুলাভাইয়ের হাতে শ্যালক খুন
৫ এপ্রিল শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সৎ দুলা ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে সৎ শ্যালক রাসিক মিয়া (২৯) খুন হয়। ঘাতক নাইজুল হক ছাতক উপজেলার খারাই গ্রামের জমসিদ আলীর ছেলে এবং মৃত রাসিক মিয়া শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউপির দামোধরতপী গ্রামের মৃত সফিক মিয়ার ছেলে। মৃত সফিক মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তৃতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তির ভাগ ভাটোয়ারা বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছামিনা বেগমের স্বামী নাইজুল হক ধারালো চুরি দিয়ে তার শ্যালক রাসিক মিয়ার পেটে ছুরিকাঘাত করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯ টায় রাসিক মিয়া মারা যান।
জামালগঞ্জে দম্পত্তি সহ ৩ খুন
৯ মে জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে চাচাতো ভাইয়ের হাতে খুন হন এক দম্পত্তি। নিহতরা হচ্ছেন, মো. আলমগীর (৩৬) ও তার স্ত্রী মোছা. মুর্শেদা বেগম (৩২)। ঘাতকের নাম রাসেল মিয়া।
১২ মে সাচনা বাজার ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে সিকান্দর আলী (৪২) নামের এক অটোরিক্সা চালকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সিকান্দর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে।
চাচার হাতে ভাতিজি খুন
জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গোয়ালগাঁও গ্রামের সয়ফুল ইসলামের চার ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ভাই লুৎফুর রহমান যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তিনি নিঃসন্তান হওয়ায় বড় ভাই সয়ফুল ইসলামের মেয়ে সানজিদা বেগম (১৬) কে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ মমতা করে সংসারের ভরন পোষণের টাকা তার কাছে পাঠাতেন। বিষয়টি সহ্য করতে পারতেন না ছোট ভাই রবিউল ইসলাম। ৯ জুন রাতে তিনি ভাতিজিকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
মাদকাসক্ত পুত্রকে খুন করালেন বাবা
২১ মে তাহিরপুরের উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাহারাম নদীর পাড়ে মাহারাম গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (২৮) খুন হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সুরুজ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। সে জানায় জাহাঙ্গীর আলম নেশাগ্রস্ত ছিল। সে তার পরিবারের লোকজনকে অত্যাচার করতো। জাহাঙ্গীরের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে তার পিতা মোহাম্মদ আলী পেশাদার অপরাধী সুরুজ মিয়া ও সেকান্দার আলীকে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া করে। খুনের আগে সুরুজ মিয়া ৫০০ টাকা দেবার কথা বলে জাহাঙ্গীরকে মাহারাম নদীর পাড়ে ডেকে আনে। জাহাঙ্গীরকে খুন করার পর সুরুজ মিয়া মোবাইলে পুত্র জাহাঙ্গীরকে খুনের কথা জানায় তার বাবা মোহাম্মদ আলীকে। ২৪ জুন সুনামগঞ্জ বিচারালয়ের তাহিরপুরের আমল গ্রহণকারী আদালতের বিচারক খালেদ মিয়া পুত্র খুনের দায়ে বাবাকে জেল হাজতে পাঠান।
শিশু হত্যা
ধর্মপাশা উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের আবিদনগর নোয়াগাঁও গ্রামের ছালেক মিয়ার সাথে একই গ্রামের প্রতিবেশী জয়নাল মিয়ার দীর্ঘ ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৮ আগস্ট দুপুরে ছেলে দুর্জয়কে কোলে নিয়ে প্রতিবেশী চন্দনের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ছালেক। এ সময় জয়নাল পেছন দিক থেকে এসে দা দিয়ে ছালেককে কোপ দেয়। ছালেক মাথা সরিয়ে নিলে সেই কোপ দুর্জয়ের মাথায় লাগে। দুর্জয়কে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্যবসায়ী নিহত
গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় হোছন সুপার মার্কেটের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকান দিয়ে ব্যবসা করতো আখলাক মিয়া। প্রতিদিনের মতো ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে দোকান বন্ধ করে বাইসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে বুড়াইরগাঁও-বাউভোগলী সড়কের বুড়াইরগাঁও গ্রামের এলাকায় রাস্তায় তার গতি রোধ করে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে ফসলি জমিতে লাশ ফেলে দেয়। এসময় তার কাছে থাকা টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। রাস্তায় তার ব্যবহৃত বাইসাইকেল পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা আশপাশে তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ক্ষেতের জমিতে লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানয়ীরা।
জামালগঞ্জে শিশু খুন
২০ ডিসেম্বর জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষীপুর গ্রামে জবাই করে রিহান (৬) নামে এক শিশুকে হত্যা করে তৌহিদ মিয়া। তাহিরপুর উপজেলার ভাটি তাহিরপুর গ্রামের তৌহিদ মিয়া (২৮) জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষীপুর গ্রামের বোনের বাড়িতে কয়েকদিন আগে বেড়াতে আসে। ঐদিন সকালে বোনের জামাই হাবিব মিয়ার ৬ বছরের শিশু রিহানকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সে।
কৃষক নিহত
দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে গরুর ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে কৃষক নজির হোসেন (৫০) সহ ৯ জন আহত হয়। ১২ ডিসেম্বর রবিবার দিবাগত রাত ৩টায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এছাড়াও ৭ ফেব্রুয়ারি দিরাইয়ের জগদল ইউনিয়নের রাজনাও গ্রামের পাশের ডোবার দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১ জন, ৯ ফেব্রুয়ারি জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা ইউনিয়নের কুকড়াপর্শী গ্রামে খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে ১ জন, ৬ মার্চ দুপুরে বনগাঁও সীমান্তে বিজিবি- চোরাকারবারি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ জন, ১৩ মার্চ দিরাইয়ের ভাটিপাড়া ইউনিয়নের নুরনগর গ্রামে সরকারি খাস জমির দখল নিয়ে ১ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত, ১৬ এপ্রিল জগন্নাথপুরে পৌর এলাকার ভবানীপুরে সীমানার রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক যুবক, ৫ মে তাহিরপুরে ৭০০ টাকার ব্যাটারির জন্য গ্রাম পুলিশ আব্দুর রউফকে খুন করে চোরেরা। ৮ মে পূর্ব শত্রুতার জেরে রিক্সা চালক শুকুর আলীকে (২০) খুন করেছে তার বন্ধু শাকিল মিয়া। ২৯ মে শান্তিগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামে তুুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে ১ জন, ১৩ মে ছাতকের নোয়ারাই এলাকার পানি ফেলাকে কেন্দ্র আপন দু’ চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ ৫ ব্যক্তি আহত হয়। ঘটনায় আহত এনাম মিয়া ২০ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দোয়ারাবাজার নৈনগাঁও গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়া বিরোধ নিয়ে ২৭ মে বিকালে সংঘর্ষে আহত ছিদ্দিক আলী ২৮মে রাত সাড়ে ১১ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ১ মার্চ ছাতকের দক্ষিণ বাগবাড়ী লেবারপাড়া এলাকায় ভাতিজা সাব্বির আহমদকে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করে চাচা অলিল মিয়া। হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করে ২৭ মে খুনিকে গ্রেফতর করে পুলিশ। দোয়ারাবাজার উপজেলার পশ্চিম বাংলাবাজারে রেঁস্তোরা ব্যবসায়ী নুর আলমকে ৩ জুন রাতে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৫ জুলাই দিরাই উপজেলার ধলবাজারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় এক যুবক, ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের কোদালের আঘাতে উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের কচুদাইড় গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ৪ বছরের শিশু কন্যা মারিয়া আক্তার মিম নিহত হয়। ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ছাতকের ইছামতি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রতিপক্ষরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর করে বাতির আলীকে। হয়। ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাতির আলীর মৃত্যু ঘটে। ১৭ অক্টোবর তাহিরপুরে রাতে খাবার খাওয়ার সময় মেয়ে খাদেজা আক্তার মাকে কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৮ অক্টোবর দিরাইয়ে জলমহালকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। ৭ ডিসেম্বর সদর উপজেলার সদরগড় গ্রামে প্রতিপক্ষের আঘাতে তালিম উদ্দিন (৫৮) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
এদিকে ৩ ফেব্রুয়ারি আপন ভাতিজাকে খুনের দায়ে চাচার ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। ২৫ মার্চ সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ নুরুল আলম মোহাম্মদ নিপু পূর্ব শত্রুতার জেরে গুলি করে দুই ব্যক্তিকে হত্যা মামলার রায়ে আদালত দুই জনের মৃত্যুদ- এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন।
সংঘর্ষে আহত ৭০৮
১২ জানুয়ারি জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের বুরাইয়া গ্রামে জমির আইল ঠেলাঠালিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ১০ জন, ১ ফেব্রুয়ারি ছাতক নদী তীরে নৌকা নোঙ্গর করা নিয়ে সংঘর্ষে ১০ ব্যক্তি, ৭ ফেব্রুয়ারি ছাতকে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে আগিজাল গ্রামে সংঘর্ষে নারীসহ ৪০ ব্যক্তি, ১৩ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুরের পাইলগাঁও ইউনিয়নের রমাপতি গ্রামে রাস্তায় মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষে ৫ জন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুমারদানী গ্রামেবাড়ির রাস্তা নিয়ে দু’ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন, ১৫ ফেব্রুয়ারি দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের পুকিডহর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় উভয়পক্ষের ৪ জন গুলিবিদ্ধ ও আহত হয় ১৫ জন, ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নের গুংগিরগাঁও গ্রামের সরস্বতী পূজার টাকা তোলা নিয়ে সংঘর্ষে ৬ জন, ১১ মার্চ দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের মধুরাপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে ২০ জন, ২০ মার্চ ছাতকে প্রতিপক্ষের হামলায় এক বৃদ্ধা. ২০ মার্চ তাহিরপুর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুয়া হিজরারা হিজরা নেতা মহুয়া আক্তার স্বর্ণালীকে মারপিট করে, ২৩ মার্চ ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের হাসনাবাদ ও করছখালী গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক, ২৪ মার্চ ছাতকে রাস্তার মালিকানা নিয়ে জাউয়াবাজার ইউনিয়নের গনিপুর গ্রামে সংঘর্ষে অন্তত ২০ ব্যক্তি, ৫ এপ্রিল শাল্লার আটগাঁও গ্রামের আব্দুল্লা আল নোমান ও সন্তু মিয়ার লোকজনের মধ্যে খাস জমির ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষে ২৫ জন, ৮ এপ্রিল ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবদলের সংঘর্ষে ৬ ব্যক্তি, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ঘোলঘর এলাকায় কলেজ পড়ূয়া ছোট ভাইয়ের দায়ের কুপে আহত হয় বড়ভাই, ১৮ এপ্রিল জাউয়াবাজার ইউনিয়নের সাউদেরগাঁও গ্রামে সংঘর্ষে ৪০ জন, ২০ এপ্রিল ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নের কুড়শিবাড়ি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আঁখি মনি নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে পুলিশের উপস্থিতিতে কুপিয়ে জখম করে তার চাচী, ২১ এপ্রিল জগন্নাথপুরের পাটলী ইউনিয়নের কামনীপুর গ্রামে বাজারের টোল আদায় নিয়ে সংঘর্ষ ১৬ জন, ২৩ এপ্রিল জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের রমাপতিপুর গ্রামে গ্রামীণ রাস্তা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ১৪ জন, ২৩ এপ্রিল ছাতকের বাঁশখলা এলাকায় ইফতার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৩৫ জন, ২৪ এপ্রিল ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তিরগাঁও গ্রামে দেয়ালে এক স্কুল ছাত্রীর নামের সাথে এক যুকের নাম লিখাকে কেন্দ্র করে ২০ জন ও ইসলামপুর ইউনিয়নের গোয়ালগাঁও গ্রামে শিশুদের বাইসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন, ১৪ মে ছাতকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষরা ছায়াদুল হক তালহা (২৮) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনার জের ধরে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ ব্যক্তি, ১৭ মে জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদগঞ্জ বাজারে সংঘর্ষে ১৫ জন, ২৩ জুন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাঁধনপাড়ায় মন্দিরের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫ জন, ২৪ জুলাই দোয়ারার দোহালিয়া ইউনিয়নের রাজনপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে এক ব্যক্তি, ১০ আগস্ট ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়নের দক্ষিণ কুপিয়া গ্রামে দোকানকোঠার মালিকানা নিয়ে দু’ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে ৮ ব্যক্তি, ১৭ অক্টোবর ধর্মপাশায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জয়শ্রী ইউনিয়নের বাদেহরিপুর গ্রামে সংঘর্ষে ২০ জন, ১৩ নভেম্বর দোয়ারাবাজারের নরসিংপুর ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অনন্ত ৪০ জন ও ১৫ নভেম্বর ছাতকে অর্ধশতাধিক, ২০ নভেম্বর ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামে নেংটা ফকিরের মাজার দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে ১০ জন, ২১ নভেম্বর ছাতকে গরুর ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ১৫ জন, ২৮ নভেম্বর সুরমা ইউনিয়নের বালিকান্দি কেন্দ্রে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ জন, ৩০ নভেম্বর ছাতকের শহরের চরেরবন্দ এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অন্তত ১০ ব্যক্তি, ১ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইসহাকপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অর্ধশতাধিক এবং ২৩ ডিসেম্বর তাহিরপুরে টিকা কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়।