বছরটি খারাপ সত্যি কিন্তু হতাশার কিছু নেই

কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে গিয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী তথা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, উত্তরাঞ্চলে বন্যা, হাওরে বিপর্যয়, উপকূলেও বন্যা-এতগুলো সমস্যা নিয়ে আজকে আমরা রোহিঙ্গাদের বিশাল ¯্রােতের মুখে পড়েছি। সরকারের দুই মেয়াদের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি আমরা।’ সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর কথা থেকে ২০১৭ খ্রিস্টিয় সনে জাতীয় সংকটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সত্যি কথা, এবার বছরের শুরু থেকেই একের পর এক সংকট ও বিপর্যয় দেখা দিতে থাকে। কতিপয় লুটেরার সীমাহীন দুর্নীতি আর প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মিলিয়ে দেশের প্রধান বোরো ফসলের ভা-ার হাওরাঞ্চলে প্রায় শত ভাগ ফসল ডুবে যায়। এরপর সারা দেশে বন্যার ধকল সইতে হয়েছে ভীষণভাবে, এই বন্যায় আরেকটি প্রধান ফসল আমন উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে। বন্যার ধকল কাটতে না কাটতেই শুরু হলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাঁধভাঙ্গা ¯্রােত। সত্যিই বিগত এক দশকের মধ্যে আর কখনও এমন কঠিন সংকটময় জাতীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় নি। তবে আনন্দ ও সুখের কথা এই যে, সরকার কোন সমস্যা থেকেই মুখ ফিরিয়ে রাখে নি। ন্যুনতম উপেক্ষা প্রদর্শন করে নি কোন সংকটেই। বরং প্রজ্ঞা ও সাহসিকতা নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার এ পর্যন্ত সফলভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ফলে এত বড় জাতীয় সংকটের কারণে দেশের অভ্যন্তরে কোথাও কোন অসন্তুষ্টি দেখা যাচ্ছে না।
তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা গত ১৫ বা ২০ দিনে বাংলাদেশে ঢুকেছে। আগের রোহিঙ্গাদের গোণায় নিলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের মতো ছোট আয়তন ও অর্থনীতির দেশের জন্য এই চাপ অসহনীয়। কিন্তু মানবতার প্রশ্নে উপেক্ষণীয় নয়। বাংলাদেশ বিষয়টি উপেক্ষা করে নি। শরণার্থীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সরকারের পুরো অংশ এখন সক্রিয়ভাবে কার্যকর রয়েছে। সরকার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টিতেও আনতে সক্ষম হয়েছে। পুনর্বাসনের পর জরুরি যে দায়িত্ব সেটি হলো এই বিপুল শরণার্থীদের আবারও স্বদেশ অর্থাৎ মায়ানমারে ফেরৎ পাঠানো। এই জায়গায়ও সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এবার রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেভাবে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়েছে অতীতে আর কখনও এমনটি দেখা যায় নি। সুতরাং এ থেকে একটি ভাল ফলাফল আশা করা যেতে পারে। জটিল ভূরাজনৈতিক হিসাবনিকেশে পরাশক্তি ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থের নিরিখে বিষয়টি বিবেচনা করলেও আমাদের স্বার্থের জায়গাটি হলো শরণার্থীদের দ্রুত সম্মান ও মর্যাদার সাথে মায়ানমারে ফেরৎ পাঠানো। এ লক্ষে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়ার ফলাফল যত দ্রুত দেখা যাবে তত মঙ্গল।
সরকারের দুই মেয়াদে একটি বছর খারাপ গেছে এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং পরিস্থিতি মোকাবেলার মধ্যেই স্বার্থক সরকারের লক্ষণ ফুটে উঠে। ওবায়দুল কাদের যেমনটি দৃঢ়ভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কথা বলেছেন আমরা সেই কথার উপরই ভরসা রাখতে চাই। এই পরীক্ষায় উৎরে গেলে একটি কঠিন সময়ের যাবতীয় বিপর্যয়কে জয় করার সফলতা যুক্ত হবে সরকারের গায়ে।