বদরুলের শাস্তি দাবি মুনিরজ্ঞাতিবাসীর

বিশেষ প্রতিনিধি
সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের গ্রামের বাড়ি মুনিরজ্ঞাতি’র মনিপুর মসজিদে আজ জুম্মার নামাজের পর খাদিজার সুস্থতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামের মানুষ এ ঘটনায় লজ্জিত, দুঃখিত এবং ক্ষুব্ধ। বদরুলের মাসহ গ্রামের সকলেই এ ঘটনার বিচার চেয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার বিচার দাবি করেছেন যারা তাদের প্রতিও সহমত পোষণ করেছেন এবং খাদিজা’র চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের গ্রাম মুনিরজ্ঞাতি। পুরোনো এই গ্রামের কয়েকটি পাড়ার নাম মনিপুর, ঘোড়াদেও, ধরারপাড়া ও ডিঙা। এই গ্রামের মৃত সৈয়দুর রহমানের ৫ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় বদরুল কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে নৃশংসভাবে কুপিয়েছে। এমন বর্বরতা মানতে পারছেন না গ্রামবাসী। গ্রামের চায়ের দোকান, মসজিদ, স্কুল, সকল স্থানেই এক আলোচনা। পাষ- বদরুল তাঁদের গ্রামের সুখ্যাতি নষ্ট করে দিয়েছে। তাই বদরুলের উপযুক্ত শাস্তি চান গ্রামবাসী। শুক্রবার সকালে গ্রামের সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে জুম্মার নামাজের পর বদরুলের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত কলেজ ছাত্রী খাদিজা’র জন্য মুসুল্লিরা দোয়া পড়বেন। নামাজ শেষে মুসুল্লিরা বললেন,‘আমরা সকলেই আল্লাহ্’র কাছে খাদিজা’র সুস্থতা কামনা করেছি’।
গ্রামের মাওলানা কাজী মনির উদ্দিন বললেন,‘আমরা বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, খাদিজার জন্য আল্লাহ্র দরবারে সকলে মিলে দোয়া করেছি। মহান আল্লাহ্ যেন তাকে সুস্থ করে তোলেন’।
গ্রামের ফখরুল ইসলাম বলেন,‘গত দুই দিন ধরে গ্রামের বাইরে যেখানেই গিয়েছি, মানুষ লজ্জা দিয়েছে। আমরা এই লজ্জা থেকে রক্ষা পেতে চাই। শুধু আমি নয় গ্রামের সকলে, এমনকি বদরুলের পরিবারের সদস্যরাও এই ঘটনার বিচার চাচ্ছেন’। একই কথা বললেন, গ্রামের মহিবুল ইসলাম ও মসজিদের ইমাম কুতুব উদ্দিন।
বদরুল আলমের মা দিলারা বেগমও বললেন,‘আমার ছেলে হলে কী হবে, আমিও ঘটনার বিচার চাই’। তিনি জানান,      
এর আগেও তার ছেলে এবং খাদিজার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জাঙ্গাইলে মারামারি’র ঘটনা হয়েছিল। কিন্তু ঐ সময় তাকে বলা হয়েছিল জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে তার ছেলের গোলমাল হয়েছে’। তিনি জানান, বদরুল খাদিজাকে কুপিয়েছে এ ঘটনা বদরুলের মোবাইল থেকেই পুলিশ তার চাচীকে জানিয়েছে।
দিলারা বেগম বলেন,‘আমারও মেয়ে রয়েছে। আমার মেয়েকে কেউ এমন নৃশংসভাবে হত্যা করতে চাইলে আমার দুঃখ লাগবে, দেশবাসীরও লাগবে। আমি কেবল ছেলের নয়, মেয়ের মা। আমি নিজেকে খাদিজা’র মা মনে করে ঘটনার বিচার চাই। তবে কেন এই ঘটনা ঘটলো এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেন খুঁজে বের করেন আমি এটিও চাই’।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল আহমদ গ্রামের পক্ষ থেকে খাদিজা’র পরিবার দেশবাসীর কাছে এই ঘটনার জন্য ক্ষমাও চাইলেন। একই সঙ্গে সোহেল বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খাদিজা’র চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বলেছেন দুর্বৃত্ত কোন দলের হতে পারে না এবং তার যে পরিচয়ই হোক অপরাধের জন্য তাকে উপযুক্ত শাস্তি পেতে হবে। এজন্য তাকে কৃতজ্ঞতা জানিচ্ছি।’