এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুরে এবারের দ্বিতীয় দফা বন্যায় উপজেলা সদর থেকে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসহ আভ্যন্তরিক রাস্তাঘাটের ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় কোটি টাকার। সম্প্রতি বন্যার পানি কিছুটা কমলেও এখনও জেলা সদরের সাথে স্বাভাবিক হয়নি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সড়কের একাধিক স্থানে এখনও হাঁটু থেকে কোমর পানি। সড়কটির কোন কোন স্থানে এখনও নৌকাযোগে পাড়াপাড় করতে হচ্ছে। একাধিক স্থানে নতুন করে ভাঙ্গন আর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই ভাঙ্গাচুড়া সড়ক দিয়েই কোনো রকম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল চালকরা চলাচল করছেন। তবে সিএনজি, ট্রাক, ট্রলি, বাস কিংবা প্রাইভেট কার চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সিএনজি চালক ও লেগুনা চালকরা রয়েছেন বেকাদায়। বন্যার পর রাস্তাঘাট মেরামত না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার (তাহিরপুর ও ধর্মপাশা) যাতায়াতকারী লক্ষাধিক মানুষ।
জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। তাহিরপুর উপজেলার পাশ^বর্তি বিশ^ম্বরপুর উপজেলার দূর্গাপুর নামক স্থানের (১শ’ মিটার) ও শক্তিয়ারখলা নামক স্থানের (২শ’ মিটার) স্থান দু’টি অন্য সড়কের তুলনায় অনেক নিচু। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য পানিতেই সড়ক দু’টি ডুবে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টিতেই কখনও ১০ দিন আবার কখনও ১৫ দিন এ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে।
অপরদিকে আনোয়ারপুর ব্রীজের পূর্ব পাশে ১শ’ মিটার এপ্রোচ এর কাজ ২০১৮ সালে শুরু হলেও এখনও সম্পন্ন হয়নি। সড়কের কাজে ঠিকাদারের গাফিলতি ও এলজিইডির উদাসীনতার কারণে গত দুই বছর ধরে ঐ স্থান দিয়ে পাহাড়ি ঢলে পানি প্রবাহে খানখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে নদ নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ঢলের পানি যাদুকাটা নদীর দুই তীর উপচে এপ্রোচ সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে পানির তোড়ে সড়কটি একেবারেই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়া পাহাড়ী ঢলে উপজেলার সীমান্তবর্তী রাস্তাসহ আভ্যন্তরীন রাস্তাঘাট ভেঙ্গে ছোট ছোট গর্ত হয়ে একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আনোয়ারপুর ব্রীজের এপ্রোচ রাস্তাটি পানির তোড়ে ভেঙ্গে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোন রকম মোটরসাইকেল চালকরা যাত্রী নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। ট্রাক, লেগুনা ও সিএনজি সড়কের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একই অবস্থা সড়কের একটু পূর্ব দিকে শক্তিয়ারখলা এবং দূর্গাপুরেও। এখানেও লোকজন নৌকায় করে পারাপার হচ্ছেন। এই পথে যাতায়াতকারীদের অভিযোগ ইচ্ছে করে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সড়কটি এমনটা করে রেখেছেন।
এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সিএনজি চালকরা জানান, গত কয়েকদিনের বন্যার পানি কিছুটা কমলেও সড়কটি ভাঙ্গা থাকায় তারা সিএনজি চালাতে পারছেন না।
সীমান্তবর্তী লালঘাট গ্রামের মোটর মোটরসাইকেল চালক জয়নাল মিয়া বলেন, সীমান্তবর্তী সড়ক সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের স্থানে স্থানে পানি থাকায় এখন নৌকায় করেই পারাপার হতে হয়। এতে ১ ঘণ্টার পথ যেতে হয় ৩ ঘন্টায়।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, পানি প্রবাহের জন্য দুটো স্থান নীচু রাখা হয়েছে। তাছাড়া হঠাৎ করে পাহাড়ি ঢলে বন্যা সৃষ্টি হওয়ায় আনোয়ারপুর এপ্রোচ সড়কটি এমন হয়েছে। পানি কমলে দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, চলমান বন্যায় এই রাস্তার ১শ’ কিলোমিটার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
- বন্যার প্রভাব, জগন্নাথপুরে কোরবানির হাটে কৃষকের গরু
- পৃথক নৌকা ডুবির ঘটনায় বাবা মেয়ে নিখোঁজ, ১ জনের মৃত্যু


