স্টাফ রিপোর্টার
বন্যা মৎস্য সম্পদের যথেষ্ট ক্ষতি করেছে। গত শুক্রবার ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি উপচে উঠে পুকুরের পাড় ও বেরিকেট ভেঙে যায়। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পোনা বেরিয়ে পড়ে। জেলার বিভিন্ন স্থানের ২০,৭৬৯টি পুকুরের মধ্যে বেশিরভাগ পুকুরের মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মাছ চাষীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষীদের তালিকা সংগ্রহ করে দ্রুত পাঠাতে তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা রায়পুর গ্রামের রফিকুল অসলাম রকুর ছেলে সাফিউল ইসলাম (সুস্বাদ), পাগলার দক্ষিণ কাদিপুর এলাকার মহাসিং নদীর মোড়ে প্রায় ১০ একর জমিতে দাদীমা নামে একটি মৎস্য খামার স্থাপন করেন। এতে তিনি রুই, মৃগেল, কাতলা, কার্প, ব্রিগেড, সরপুটি, কাটার,
বাউস মাছের পোনা ও ২ কেজি ওজনের বড় মাছ সহ প্রায় কোটি টাকার উপরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করেন। কয়েক মাস পর মাছ বিক্রি করার কথা ছিল। তাতে অনেক টাকা লাভ হতো তার। কিন্তু সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অকাল বন্যার পানি ফিশারিতে ঢুকে পড়ে। এতে করে সব মাছ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ফিশারির চতুর্দিকে জাল ও পাটিবাঁধ দিয়ে মাছ আটকানোর প্রাণপণ চেষ্টা করেন। এতে উপকরণ এবং শ্রমিক খরচসহ আরও প্রায় লাখ টাকা ব্যয় হয় তার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পানির তোড়ে পাটিবাঁধ ভেঙ্গে পানি ভেতরে ঢুকে পড়ায় সব মাছ ভেসে যায়। সব হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা।
খামারের মালিক সাফিউল ইসলাম সুস্বাদ বলেন, স্বপ্ন নিয়েই খামার করেছিলাম। খামারে প্রায় কোটি টাকার উপরে বিনিয়োগ করেছিলাম। আশা ছিল মাছ বিক্রি হলে অর্ধকোটি টাকা আয় হবে। কিন্তু বন্যায় আমার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। এ ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে নেব তা ভেবে পাচ্ছি না। পরিবার পরিজন নিয়ে এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। সরকারের কাছে আমার দাবি আমি সহ আমার মত যারা সহায়-সম্বল হারিয়েছে তাদের দিকে একটু নজর দেওয়ার জন্য।
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর গ্রামের ‘ইব্রাহীমপুর মর্ডান এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড’র মালিক মুসলিম উদ্দিনের ৯টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুকুরের ভূমির পরিমাণে ছিল ৫ কেয়ার করে ৩টি, সাড়ে ৩ কেয়ারের ১টি, ৩ কেয়ার করে ৩টি, ২ কেয়ার করে ২টি। এসব পুকুরে রুই, কাতলা, কাইলা, পাঙাস, তেলাপিয়া, ঘাসকার্প, সিং, ব্রিগেট, মিরকা, চিড়াই ও সিলভার কার্প জাতের প্রায় ৩ লাখ পোনা ও বড় আকারের মাছ বেরিয়ে যায়। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ইব্রাহীমপুর মর্ডান এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড’র মালিক মুসলিম উদ্দিন জানান, শুক্রবার মধ্যরাতের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সকল পুকুরের পাড় ভেঙে ও বেরিকেট তলিয়ে যাওয়ায় পুকুরের সকল প্রজাতির ছোট বড় সকল মাছ বেরিয়ে পড়ে। এতে আমার প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমার কোটি টাকারও বেশি ব্যাংক ঋণ রয়েছে।
একই গ্রামের শিহাব মিয়ার রয়েছে ২ কেয়ার করে ২টি পুকুর। গত শুক্রবার মধ্যরাতের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পুকুরের পানি উপচে উঠে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও বড় মাছ বেরিয়ে যায়। এতে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পুকুরের পানি উপচে উঠে একই গ্রামের মিজান মিয়ার ৩ কেয়ার করে ৩টি পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বেরিয়ে যায়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
কবির মিয়ার রয়েছে ২ কেয়ার এবং ৩ কেয়ার করে ৫টি পুকুর। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পুকুরের পানি উপচে উঠে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও মাছ বেরিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সাইফুল মিয়ার রয়েছে ৩ কেয়ার পরিমাণের ১টি পুকুর। বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছ পুকুরে চাষীদের তথ্য সংগ্রহ করার কাজ চলছে। দ্রুত আমার কাছে তালিকা চলে আসবে।


