বিশেষ প্রতিনিধি
ভাটির দিকে পানি কম নামায় এবং উজানের (সিলেট জেলার) পানি নামা অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জের বন্যার পানি ধীরে নামছে। টানা ১০ দিন হয় বন্যার পানির কষ্টে ভোগছেন সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার কমপক্ষে ছয় লাখ মানুষ। ঘরবাড়ি থেকে পানি নামলেও অনেক সড়কে এখনো পানি আছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরাও এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
সুনামগঞ্জে গেল ১০ মে থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। পাহাড়ি ঢল (মেঘালয়- চেরাপুঞ্জির পানি) নামতে শুরু হয় ১৩ মে থেকে। ১৭ মে ডুবে যায় জেলার দোয়ারা, ছাতক ও সুনামগঞ্জ সদরের বেশিরভাগ এলাকা। ২১ মে থেকে রোদের দেখা মিলে। কিন্তু পানি কমছে ধীর গতিতে।
সুনামগঞ্জ শহরতলির কালিপুরের বাসিন্দা মো. শহীদ মিয়া (৬২) বললেন, ২০১৭ সালে বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে গিয়েছিলো। সেই পানি দ্রুত নেমেছে। এবারের বন্যার পানি খুবই ধীরগতিতে নামছে। এখনও বাড়ির সামনের সড়ক পানির নিচে।
একই এলাকার রইস মিয়া (৬০) ও আব্দুল কদ্দুস বললেন, ঘরবাড়ি থেকে পানি নামলেও সড়কের কিছু অংশে এখনও পানি আছে। ধীরগতিতে পানি নামছে। চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে আছি।
এই গ্রামের বাসিন্দা বয়োজ্যেষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন বললেন, চল্লিশ বছর আগে কালিপুরে বাড়ি করেছি, বন্যা হয়েছে কয়েকবার, ১৯৮৮ সালের এবং এবারকার বন্যাই দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে বেশি। ভাটিতে নদীর ¯্রােতের প্রবাহ কম। সুনামগঞ্জ থেকে ভৈরব পর্যন্ত নদী খনন না করলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বললেন, অনেক হাওর ও খোলা জায়গার পানিও কমছে। সংকোচিত এলাকার পানি স্থির রয়েছে। কারণ উজান থেকে পানি নিচে এখনও নামতেছে। যেসব এলাকার পানি এখনও স্থির আছে, সেসব এলাকার পানি নেমে যেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (২) শামছুদ্দোহা বললেন, সুনামগঞ্জের পানি নামার তিন পথ আছে। সুরমা-ধনু হয়ে মেঘনায়, সুরমা-কালনী-আবার সুরমা হয়ে মেঘনায় এবং সুরমা থেকে সরাসরি মেঘনায়। আগাম বন্যায় এই তিন পানিপথই ভরাট হয়েছে। খননও সেভাবে হচ্ছে না। নদী খননের জন্য শীঘ্রই একটি সমীক্ষা শুরু হবে। নদী খনন প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে বন্যার পানিও দ্রুত নামবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (১) মো. জহুরুল ইসলাম বললেন, সিলেটের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো প্লাবিত। এই পানি সুরমা নদী দিয়ে সুনামগঞ্জ হয়ে মেঘনায় নামছে। সিলেটের পানি এদিকে আসায় পানি একটু ধীরে প্রতিদিন দুই সেন্টিমিটার করে কমছে। তার মতে সুরমা নদী খনন করলেই এবারের বন্যার মতো বন্যা ঠেকানো যাবে না। এবার ১৩ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সাত দিনে মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে ২২শ’ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই পানি ধারণ করার ক্ষমতা সুরমার নেই। সিলেটে সুরমা উপচে বন্যা হওয়ায় এবার সুনামগঞ্জবাসী রক্ষা পেয়েছেন। না হয় সুনামগঞ্জে ভয়াবহ আকারের বন্যা হতো।
তার মতে ভাটিতে কোথাও নদী ভরাট থাকলে, পানি তার নিজস্ব পথ তৈরি করে নিতো। পানির পরিমাণ বেশি এজন্য নামার সময় দিতে হবে। সুনামগঞ্জের যে অঞ্চলে এখনো পানি রয়েছে, সেই অংশটা বেসিনের মতো, এখানে এসে পানি জমা হয়ে তার নিজস্ব গতিতেই নামবে। সুনামগঞ্জকে আগাম বন্যা থেকে রক্ষা করতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং জরুরি বলে মন্তব্য করেন এই প্রকৌশলী।
- ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণ সামগ্রী মওজুত রয়েছে’
- শান্তিগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ


