স্টাফ রিপোর্টার
নদী ভাঙন রোধ হলে, ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে, নদী ভাঙলেই প্রকল্প হবে, লুটপাটেরও সুযোগ থাকবে। ভাঙন বন্ধ হলে ব্যবসা হবে কীভাবে। গত বছর কোটি টাকার উপরে কাজ হয়েছে, এবারও ভাঙন ঠেকানোর জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা এসেছে। এর আগেও একবার ব্লক বিছানোর নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরের একেবারে নিকটে সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের পূর্ব ইব্রাহিমপুর গ্রামের একাধিক গ্রামবাসীর বক্তব্য এটি।
গ্রামবাসী জানালেন, একদিকে নদীর পানি বাড়ছে, অন্যদিকে বালি-সিমেন্টের বস্তা ভরাট হচ্ছে। এবার তারা শুনেছেন ৫০ হাজার বস্তা ভাঙন স্থানে ফেলা হবে। গত বছরও এভাবে বস্তা ফেলার নামে লুটপাট হয়েছে, ১০০ বস্তা ফেলে হাজার বস্তা গুণা হয়েছে। এবারও বস্তা ফেলার আগেই গুনার দাবি জানালেন তারা।
২০০৭ সালের ৩ রা আগষ্ট থেকে নদী ভাঙন শুরু হয় পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামে। দেখতে দেখতে গ্রামের অর্ধেক বাড়ি-ঘর সুরমায় বিলীন হয়ে যায়। অসংখ্য গাছপালাও বিলীন হয় নদী গর্ভে।
গ্রামের গাজী রহমানের বাড়ি, জগলুল মিয়ার কিন্ডারগার্টেন ও গ্রামের একাধিক ব্যবসায়ীর সুঁটকির মাচান তৈরির জমি, মুসলিম উদ্দিনের বাড়ি, আলী আজগর মিয়ার বাড়ি নদী গ্রাস করে।
২০১১ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মতিউর রহমানের চেষ্টায় ভাঙন স্থানে ব্লক স্থাপনের কাজ হয়। গ্রামবাসীর দাবি অপরিকল্পিত ও যেনতেনভাবে ব্লক বিছানোয় কেবল টাকার অপচয় হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয় নি। ২০১২ সালে অর্ধেক ব্লক নদীতে চলে যায়। গত বছরেও এই একই স্থানে কাজ হয়, কিন্তু ভাঙন ঠেকানো যায় নি।
গ্রামের বাসিন্দা মুসলিম উদ্দিন বলেন, কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ। আমাদের ঘরবাড়ি বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। ব্লক বিছানোর নামে বারে বারে কিছু টাকার লুটপাট হয়। গ্রামের লোকজন কথা বললে, ভয় দেখানো হয়, যেভাবে কাজ করতে গ্রামবাসী বলে, সেভাবে হয় না। আমার বাড়ির সামনে এখনো নদী ভাঙন রয়েছে।
গাজী রহমান জানান, নদী ভাঙনে গ্রামের সড়ক বিলীন হয়েছে। এই সড়ক এখনো হয় নি।
জগলুল মিয়া জানান, গত বছর ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বস্তা ফেলার সময় এলাকার কয়েক জনকে নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকবার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনেন নি। এবারও কাজে অনিয়ম হবার আশংকা আমাদের।
গ্রামের আব্দুল হানিফ এবারের ভাঙন ঠেকানোর কাজে কঠোর নজরদারীর দাবি জানালেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, পূর্ব ইব্রাহিমপুরের নদী ভাঙন ঠেকানোর জন্য অস্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য দুই কোটি টাকার কাজ হবে। ২৪৮ মিটার এলাকায় বালি ভর্তি জিও বেগ ফেলা হবে। জিও ব্যাগে বালি ভরে ঢাম্পিং করা হচ্ছে। ৩০-৪০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর মিসবাহ্ কাজের উদ্বোধন। ব্যাগ নদীতে ফেলার আগেই গণনা হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. আবুল হোসেন বলেন, বস্তায় মাটি মেশানো বালু দেয়া হচ্ছে। পরিমাণ মতো বালু দেয়া হচ্ছে না। জিও ব্যাগের পরিমাণও কম দেয়ার আশংকা করা হচ্ছে। এনিয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।


