হোসেন তওফিক চৌধুরী
কমরেড প্রসূন কান্তি বরুণ রায় এক মৃত্যুঞ্জয়ী ও চিরঞ্জিব। বরুণ রায় শুধুমাত্র একটি নামই নয়, বরুণ রায় হচ্ছেন একটি কিংবদন্তি ও ইতিহাস। এই ইতিহাস হচ্ছে মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকার। প্রতিষ্ঠা, আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস। ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস। দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণের জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। সারা জীবন তিনি তাঁর আদর্শের পতাকা সমুন্নত রেখেছেন এবং নিরলসভাবে সংগ্রাম করে যশস্বী হয়েছেন।
ভোগ-বিলাস-বিত্ত কথনো তাকে তাঁর অনুসৃত আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বারবার সুযোগ পেয়েও তিনি এসব থেকে উর্দ্ধে ছিলেন। কোন কালিমা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি ছিলেন নিষ্কলুষ। তাঁর জীবন যাপন ছিল সাধারণ মানুষের মতো অত্যন্ত সহজ ও সরল। তিনি ছিলেন বামপন্থি আদর্শের এক অকুতভয় সৈনিক। তিনি বরুণ বয়সে বামপন্থি আদর্শে উদ্ভূদ্ধ হন। সারা জীবন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছেন। ১৯৫৪ সালে তিনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান পরিষদে সদস্য নির্বাচিত হন। অনেকে মনে করেন তিনি যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবেই সদস্য হন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তফ্রন্টের শরীক দল ছিল না। একক ভাবেই কমিউনিস্ট পার্টি নির্বাচন করেছে। আবার ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পাকিস্তানি আমলে তিনি দীর্ঘদিন কারান্তরীন ও আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন। মহান ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের এক সফল সংগঠক। সব শেষে তিনি ভাসান পানিতে মাছ ধরার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বরুণ রায় সম্পর্কে কিছু বলতে বা লিখতে গেলে আমাদের পরিবারের প্রসঙ্গ এসে যায়। বরুণ রায়ের পিতা করুণা সিন্ধুু রায় এবং আমার পিতা মকবুল হোসেন চৌধুরী উভয়ে ১৯৩৭ সালে তদানিন্তন আসাম লেজিস্ট্রেটিভ পরিষদে সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন। তারা উভয়ে এলাকার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে পরিষদে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তাদের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক ছিল। এই সুবাধেই বরুণ রায় আমাদেরকে অত্যন্ত ¯েœহ করতেন।
আজ তাঁর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। বরুণ রায় তাঁর অবদানের জন্য মানুষের অন্তরের মনিকোঠায় অবস্থান নিয়েছেন। মৃত্যু তাঁকে ছিনিয়ে নিলেও তিনি আমাদের মধ্যে বেঁচে আছেন এবং বেঁচে থাকবেন। ত্যাগি ও আদর্শবাদি ব্যক্তিত্ব হিসাবে তিনি অনাগতকালেও সমাদৃত ও শ্রদ্ধা অর্জন করবেন।
লেখক : সিনিয়র আইনজীবী-কলামিষ্ট।


