বর্ডার হাটে দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় সীমান্তে নতুনভাবে নির্মিত একটি বর্ডার হাটে পণ্যবিক্রেতাদের জন্য দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগে বুধবার দুপুরে জেলা শহরের শহীদ মিনারে এসে বেলা একটা থেকে তিনটা পর্যন্ত দুইঘণ্টার প্রতিবাদী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন ওই সীমান্ত হাটের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের ১১ জন বাসিন্দা। তাঁরা হাটে দোকান বরাদ্দের আবেদন করেও পাননি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলা নতুন করে দুটি বর্ডার হাট হচ্ছে। এসব হাটে পণ্যবিক্রেতাদের দোকান বরাদ্দের জন্য সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে তাহিরপুর উপজেলার সায়দাবাদ-নালিকাটা বর্ডার হাটে দোকান বরাদ্দ পেতে আবেদন করেন ৩৩৯ জন ব্যক্তি। গত ৮ মার্চ কমিটি লটারির মাধ্যমে ৫০ জনের নামের একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ২৫ জনকে রাখা হয়েছে অপেক্ষমাণ তালিকায়। পরে এসব তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের বিশেষ শাখায় পাঠানো হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী বর্ডার হাটের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বাসিন্দারা দোকান বরাদ্দ পাবেন।
অনশনে অংশ নেওয়া তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, তাঁর বাড়ি ওই বর্ডার হাটের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে। তিনিও একটি দোকান বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছিলেন। লটারির সময় তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে গেলে তাঁকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে তিনদিন ঘুরেও তিনি তালিকা পাননি। এরপর তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন,‘কমিটির লোকজন তাদের ইচ্ছেমতো লোকদের দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। লটারি হয়েছে গোপনে। আবেদনকারী কাউকে বিষয়টি জানানো হয়নি।’
অনশনে থাকা লাউড়েরগড় গ্রামের বাসিন্দা তছকির আহমদ বলেন,‘আমাদের দাবি হলো, নীতিমালা অনুযায়ী যাঁদের আবেদন বৈধ হবে, তাঁদের নিয়ে প্রকাশ্যে লটারি হোক। কিন্ত সেটি হয়নি। দেখা গেছে, বর্ডার হাট থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরের বাসিন্দারাও দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন। এটা নিশ্চয়ই নীতিমালা অনুযায়ী হয়নি।’ সায়দাবাগ গ্রামের বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন,‘আমার ঘরের পাশেই হাট হচ্ছে। অথচ আমি দোকান পাইনি। দোকান পেয়েছে দূরের লোকজন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, আমার কাছেও এ বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। এখন যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেটি খসড়া। সেটি যাচাই-বাছাই হচ্ছে। নীতিমালার বাইরে কেউ দোকান বরাদ্দ পেলে সেটি অবশ্যই বাতিল হবে। প্রয়োজনে আবার লটারি হবে।