কুমার সৌরভ
সাদা কাগজের মতো মগজে
এখন কোনো বর্ণমালা নেই
বেপাত্তা শব্দরাও নেই অভিধানে
বাক্য হারিয়ে গেছে নির্বাক মুখে
এবার তবে বাঙ্ময়তা নেই
জিহ্বার কর্মবিরতি।
তবু পথ চলি
একুশের পাতাঝরা দীর্ঘ পথ।
দেখি করসবাগে পাতার গালিচা
নতুন কুঁড়ি শাখায় শাখায়
একটি পাখি ডাকে- ”আয়.. আয়..”
প্রমিত মধ্যাহ্নের নিস্তেজ সূর্য গায়ে চাপিয়ে।
শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনির মাঝে
কি বর্ণমালা আছে?
কান পেতে শুনি
শান্তিগঞ্জের অদূরের বিরান মাঠে।
সেখানে ন্যাড়া কয়েক করস গাছ বলে-
”দেখো, আমরা মরে যাইনি
আর ক’দিন পরই মাথায় উঠবে কচিসবুজ
পত্রবাহার। বুক চিতিয়ে তো আছিই
ঢেউ থেকে জনপদ বাঁচাতে।”
কী আশ্চর্য, আমি করসের ভাষা বুঝছি না
তিলেক পরিমাণ
নিজেকে মনে হয় ভাষাহীন পৃথিবীর
আদিমতর প্রাণী এক।
ব্যগ্র ব্যাকুল আমি বসে পড়ি মাঠের পত্রাসনে
যদি বসন্তবাতাসে আসে শব্দদল
কুড়াব রাশি রাশি
আমি যে অপেক্ষায় পাষাণ,
কতদিন ভাষাহীন বোধহীন ।
মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে একজন শ্যামলকান্তি ধামাইলের মোহনসুরালাপ
প্রতাপবান্ধা, হেমেন্দ্রকুমারের
সূর্যব্রতগীত এবং কাঠইরবাসী
মধুসুধনের মনসাপুরাণের
কথা বলতে গেলেন যখন
তখন সড়কশকটের বিশ্রী শব্দ
আর অদূরের হাটুরে কোলাহল
অজস্র তিরের মতো বিঁধে
আমার শূন্য মগজে।
শ্যামলকান্তির সুরকথা আর শোনা হয় না।
বাজারের দরদাম, পান্ডাদের খিস্তিখেউড়
অচেনা বালিকার অজানা আর্তনাদ
আমাকে আবার রিক্ত করে দেয়।
ত্রস্ত পালাই আমি, যেন এমন পলায়নপরতা
আমার চৌদ্দগোষ্ঠীর পরম্পরা।
বর্ণমালাগুলো তোমরা আবার ফিরে আসো
বিস্তৃত অভিধানের মতো স্বপ্নের আদর্শ খামারে
একদল তরুণ এখনও আঘুম
তুমি আসলেই স্বপ্ন
এক দশ বিশ…
কান্তিময় শ্যামলকান্তি সুরের কেচ্ছা নিয়ে
আসর বসাবে শান্তিগঞ্জের মাঠে।
১৯.০২.২০২১


