ধর্মপাশা প্রতিনিধি
করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও চরম অব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করেই চলছে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম। টিকা নিতে এসে প্রচন্ড ভীড়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এবং টিকাদান কক্ষে প্রবেশ করার সময় ধাক্কাধাক্কিতে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। চাপ সইতে না পেরে কেউ আবার মাথা ঘুরে ঢলে পড়ছে। মানা হচ্ছে না শারীরিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। ফলে করোনা থেকে সুরক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীরা আরও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে।
বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর ও চামরদানি ইউনিয়নের ৭টি বিদ্যালয়ের ২ হাজার ৮২৬ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যদিও ওইদিন স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৬০ জন শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদানের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে লক্ষমাত্রা পূরণ হয়নি। তাই বাকি ৬৩৪ জন শিক্ষার্থীকে বৃহস্পতিবার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ও বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ১৪৬ জন শিক্ষার্থীর সাথে টিকা প্রদান করা হবে। বুধবার সকাল থেকে মধ্যনগর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উত্তর পাশে একটি ভবনে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এক সঙ্গে জড়ো হওয়ায় প্রচন্ড ভিড় তৈরি হয়। সেই ভিড়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এবং টিকাদান কক্ষে প্রবেশ করতে গিয়ে কার আগে কে যাবে- এমন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌন দ্বন্দ্ব ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যনগর থানা পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এগিয়ে আসেন। এদিকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মাথা ঘুরে পড়ে যায় আবিদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী নিরাপদ স্থানে নিয়ে মাথায় পানি ঢেলে সুস্থ করা হয়।
আবিদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাজল মিয়া বলেন, ‘খুব শোচনীয় পরিবেশে টিকা দেওয়া হয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আমার বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে যায়। কার আগে কে যাবে তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কিও হয়েছে। শুরুর দিকে পুলিশও ছিল না।’
মধ্যনগর থানার ওসি নির্মল দেব বলেন, ‘নির্বিঘেœ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনয় পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে যদি ভলান্টিয়ার গ্রুপ করে স্ব স্ব শিক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা লাইন করে টিকাদানের ব্যবস্থা করা হতো তাহলে আরো ভালো হতো।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. এমরান হোসেন মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি।


