বাঁধপাড়ে শত শত কৃষকের মানববন্ধন

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জের হালির হাওরের বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় বোরো ফসল নিয়ে আতংকিত কৃষকরা। দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবিতে হাওরের বাঁধের উপর মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে হাওর পাড়ের কৃষকরা। শুক্রবার হালি হাওরের হাওরিয়া আলীপুরের বাঁধ এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে এলাকার শত শত কৃষকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আক্তার আলী, খলিলুর রহমান, আয়না মিয়া, আব্দুল আউয়াল, অমৃতা বিবি, হাজেরা বেগম, লালজান বিবি, আ. রইছ, ইয়াছিন মিয়া, সাইদুল হক, আমিনুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘হাওরের বাঁধের কাজ এখনো অনেক জায়গায় শুরুই হয়নি। কিছু কিছু জাগয়ায় মাটির প্রলেপ দিয়ে লোক দেখানো বাঁধ দেয়া হয়েছে। অসীম চেয়ারম্যানরে একদিনও হাওরের বাঁধের কাজে দেখা যায় নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকরা খালি আইয়া মেম্বার আর চেয়ারম্যানরারে খোঁজে।’
জানা যায়, হাওর রক্ষা বাঁধের কাজের নির্ধারিত সময় সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো ২০ ভাগ কাজও সম্পন্ন হয়নি। ২০ ভাগের মধ্যে নামে মাত্র কিছু কাজ করেছে পাউবোর ঠিকাদার ও পিআইসি।  হালির হাওরের বাঁধের কাজ নিয়ে উৎকন্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে হালির হাওরের বদরপুর, ঘনিয়ার কাড়া, রাঙ্গিয়া, হাওরিয়া আলীপুরের বাঁধগুলো ঘুরে দেখা যায় সব হাওরগুলো অরক্ষিত। ঘনিয়ার বিল ও   
রাঙ্গিয়ার বাঁধে গেল বছরের পুরাতন বাঁধের উপরে নামে মাত্র ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি পরিমাণে উচু করে মাটি ফেলা হয়েছে। যা একটু বৃষ্টির পানিতে ধসে যেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) দায়িত্বশীল লোকজনও বাঁধের কাজের ব্যাপারে আন্তরিক নয় বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। ঠিকাদার ও সাব ঠিকাদারের অনুগতরা স্থানীয় কৃষকদের সাথে বাঁধ নির্মাণ নিয়ে দুর্ব্যবহার করার খবর পাওয়া গেছে। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
হাওরিয়া আলীপুরের গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানটিতেও এক টুকরি মাটিও পড়েনি। গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ক্লোজারে এখনো কোন মাটি ভরাট না করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ঐ এলাকার কৃষকরা। বাঁধটি এখনো সম্পূর্নভাবে অরক্ষিত আছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেই পানি হাওরে প্রবেশ করে সোনালী ফসল তলিয়ে যাবে।
পাউবো ও ঠিকাদারদের সূত্রে জানা যায়,হালির হাওরের ঠিকাদারী কাজের বদরপুর থেকে ঘনিয়ার কাড়া পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার কাজের জন্য বরাদ্দ ১২ লক্ষ টাকা, হাওরিয়া আলীপুর থেকে ঘনিয়ার বিল পর্যন্ত বরাদ্দ ৩৮ লক্ষ টাকা, পাউবোর হালির হাওরের ১২৬ পিআইসি বেহেলীর ইউপি সদস্য আব্দুল হাসিম রাঙ্গিয়া ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত কাজের জন্য বরাদ্দ পান ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। উল্লেখিত প্রকল্পগুলোর নামে মাত্র মেরামত কাজ হলেও অধিকাংশ জায়গায় কাজ শেষ হয়নি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, হাইব্রিড উচ্চ ফলনশীল জাতের ৫৯২৫ মে. টন, উফসী জাতীয় ফসল ৯১৪১ মে. টন, স্থানীয় জাতের ফসল ৮৮১ মে. টন সহ অন্যান্য ফসল প্রায় ১ লাখ মে. টন। যার বাজার মুল্য প্রায় ৩ শত কোটি টাকা।
হালির হাওরের পাউবোর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারি প্রকৌশলী (এসও) খন্দকার আলী রেজা বলেন,‘ আমি মাঠে আছি, আমার কাজ চলছে।’ তাহলে সময় মত কেন কাজ সম্পন্ন করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যান।
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস বলেন,‘হালির হাওরের বাঁধ ও ক্লোজারের কাজ এখনো চলমান। আমি ঠিকাদার ও পিআইসিদের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য চাপে রেখেছি। যদি বাঁধে নিয়মমত মাটি না ফেলা হয় তাহলে বিল কর্তন করে দেয়া হবে।’