বাঁধের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প যাচাইয়ে কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় কোনো প্রকল্প গ্রহণ কিংবা কোনো প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে কিনা বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাওরে এবার গত বছরের চেয়ে প্রায় দুইশ প্রকল্প বেশি গ্রহণ করায় এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন ওঠেছে। এ কারণে প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হাওরে বাঁধ নির্মাণ বিষয়ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রকল্প যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান করা হয়েছে সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনকে। পাঁচ সদস্যের কমিটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গঠিত জেলা কমিটির সভাপতি ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেছেন, গত বছর প্রকল্প ছিল ৫৭২টি। এবার এখন পর্যন্ত ৭৪৪টি প্রকল্প হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রকল্প বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা মহল থেকে কথা উঠেছে। আমি কমিটির সভাপতি হিসেবে এসব প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে দায়ভার নিতে পারি না। প্রতিটি প্রকল্প যাছাই-বাছাই করা হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকা সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা কমিটি প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে। পরে প্রতিটি প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাস্কফোর্স প্রি-ওয়ার্ক নেয়। যেখানে দরকার সেখানেই প্রকল্প নেওয়া হয়। তারপরও যদি কোথাও অভিযোগ থাকে আমরা অবশ্যই বিষয়টি দেখব।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাওরে বাঁধের কাজের জন্য ৭৪৪ টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে ৬৭৮টি। এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়েছে ৩৯৭টি প্রকল্পে। প্রতিটি প্রকল্পে একটি পিআইসি কাজ করবে। নীতিমালা অনুযায়ী, হাওরের প্রকৃত কৃষক ও সুবিধাভোগীদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি পিআইসি গঠন করা হয়। বাঁধের কাজে এ পর্যন্ত ৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বরাদ্দের চাহিদা আছে ১২৮ কোটি টাকা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে সুনামগঞ্জে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের দুই নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান ও মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।