আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজে অনিয়ম দেখে ক্ষেপে গেলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। সোমবার দুপুরে তিনি জগন্নাথপুরের মইয়ার হাওরের স্টিল ব্রিজের নিকটবর্তী নলুয়া হাওর পোল্ডার-১ এর আওতাধীন ২৬ ও ২৭ নম্বর বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজ পরির্দশন করতে গিয়ে বাঁধের কাজে অনিয়ম ও গাফিলতির দেখে ক্ষুব্ধ হন। এছাড়া ২৫ নম্বর প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় এবং প্রকল্পের কাজে দায়িত্বে থাকা কোনো লোকজনকে দেখতে না পেয়ে জেলা প্রশাসক আরো বেশি ক্ষিপ্ত হন। এসময় তিনি প্রকল্পের কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। পরিদর্শনের সময় জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের আব্দুস সামাদ আজাদ অডিটরিয়ামে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ তদারক কমিটির মতবিনিময় সভায় তিনি আবারও বাঁধের কাজের অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ এর নেতৃত্বে ৫টি গ্রুপে উপজেলার ৪৫টি প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে সন্ধ্যায় মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ
নির্মাণ তদারক কমিটির সভাপতি মাহফুজুল আলম মাসুমের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক এমরান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার হাসান আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জহিরুল ইসলাম, জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মখলেছুর রহমান প্রমুখ।
সভায় পরিদর্শন কর্মকর্তারা বেড়িবাঁধের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। এরপর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। আমরা সরকারের নির্দেশনায় মাঠে কাজ করছি।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোন প্রকল্পে সঠিকভাবে কাজ হয়নি। তিনি প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্য সচিবদেরকে দ্রুত সঠিকভাবে প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। সঠিকভাবে কাজ না করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, জনগণের টাকা কোন ভাবে অপচয় করতে দেওয়া হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির দায়িত্বশীলদেরকে বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন না হলে মামলা হবে। কাজ ফাঁকি দিয়ে বিল নিয়ে যাবেন তা হতে পারে না।
দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জানান, নলুয়া হাওরের ২৫ নং প্রকল্পের দুই পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করে বাঁধে ফেলা হয়েছে। স্লোপ এবং কমপেকশন হয়নি। কাজ হয়েছে দায়সারা। একইভাবে ২৬ নং প্রকল্পের কাজেও অনিয়ম দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কাটাগাঁঙ নদীর পাড় ঘেষা মইয়ার হাওরস্থ নলুয়ার হাওর পোল্ডার-১ এর ২৫ নম্বর প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। বাঁধের নিকট থেকে মাটি উত্তোরন করে বাঁধের কাজ হচ্ছে। দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে। অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। বাঁধে স্লোপ ও কমপেকশন হয়নি। এখনও ক্লোজিং (ভাঙা বন্ধ) এর কাজ শেষ হয়নি। মাটি পড়েনি বেশ কিছু অংশে। এই ০.১১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ডুবন্ত বাঁধের ব্রীচ ক্লোজিং (ভাঙা বন্ধকরণ) নির্মাণ ও মেরামতের জন্য ১০ লাখ ১ হাজার ৩শত ৫৭ টাকা বরাদ্দ হয়। প্রকল্পের সভাপতি আবুল হোসেন বশর।
তিনি জানান, মাটি কাটার মেশিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ করা হয়নি আজকে (গতকাল)। তবে নিদিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার ৪৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের মাধ্যমে ৪২.৩১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ হবে। এই কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তিন কোটি টাকা। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়। প্রায় দেড় মাসে হাওরের একটি বাঁধের কাজও শতভাগ শেষ হয়নি। আগামী ২৮ র্ফেরুয়ারি বাঁধের কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়।
জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, ৪৫টি প্রকল্পের মধ্যে এক, দুইটি প্রকল্প বাদে সব ক’টি প্রকল্পে কাজ চলছে। বেড়িবাঁধগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে বলে তিনি জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, নীতিমালা অনুয়ায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত কাজ তদারকি করছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁেধর কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম গাফিলতি আমরা সহ্য করব না।


