বাঁধে বেশি বরাদ্দ ধর্মপাশায়, তথ্যের লুকোচুরিও ওখানেই বেশি

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে এবার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে সবচেয়ে বেশি লুকোচুরি ধর্মপাশা উপজেলায়। ওখানে পিআইসিও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সবচেয়ে বেশি। বরাদ্দও অন্য উপজেলার চেয়ে অনেক বেশি। জেলার ১১ উপজেলায় ৭২৫ টি পিআইসি’র মধ্যে কেবল ধর্মপাশায় ১৫৯ টি। জেলায় বরাদ্দ ১২৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। তন্মধ্যে শুধু ধর্মপাশা উপজেলায় বরাদ্দ ৩০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। পুরো জেলার হাওর রক্ষা বাঁধের পিআইসি’র বেশির ভাগ তথ্য জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে আপলোড হলেও ধর্মপাশার ১৫৯ পিআইসি’র মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৬ টি পিআইসি’র তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। অথচ. কাজ সবগুলো বাঁধেই শুরু হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পিআইসি’র তথ্য কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। চাইলেও কেউ দিচ্ছে না, ধর্মপাশার স্থানীয় এক সাংবাদিকের মন্তব্য এটি। ওই সাংবাদিক বললেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামের ফোনও বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে, না হয় তিনি ফোন ধরেন না। ফোন ধরলেও কিছু জিজ্ঞেস করলেই বিরক্তি প্রকাশ করছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখার আগে কয়েকবার ধর্মপাশার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারীকে ফোন দিলে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ধর্মপাশার ৩য় পৃষ্ঠায় দেখুন
রাজাপুর ইউপি সদস্য বাক্কু মিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, এই উপজেলায় সকালে পিআইসিতে একজনের নাম, টাকা না দিলে বিকালে আরেকজনের নাম লাগানো হচ্ছে।
কাকে টাকা দিতে হয়, এই প্রশ্নের জবাবে এই ইউপি সদস্য বলেন, অনেক নেতাদের টাকা দিতে হয়, নাম বললে বাড়ী থাকতে পারব না।
ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস বলেন, আমার জানামতে পিআইসিতে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ নেই। নয়ছয় হচ্ছে বলেও আমার জানা নেই। পিআইসি’র সদস্য এবার অন্য বছরের চেয়ে বেকায়দায় বেশি। ৮০ ভাগ পিআইসি কাজ শুরু করেছে, কিন্তু এখনো কোন টাকা পায়নি। অন্যান্য বছর শুরুতে ২০ ভাগ টাকা দেওয়া হয়েছে।
ধর্মপাশার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তাহের বলেন, সকল পিআইসিই কাজ শুরু করেছে। ওয়েবসাইটে তথ্য আপলোড করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ২-১ দিনের মধ্যে তথ্য আপলোড হবে।
জেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির অভিযোগ নিম্পত্তিকারী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেন বলেন, কাজ শুরু করার আগেই তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া এবং প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড, পরিদর্শন খাতা রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্মপাশায় তা মানা হচ্ছে না। আমার মনে হচ্ছে, স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের আন্তরিকতার ঘাটতি আছে।