বাঁধ দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি এমপি মিসবাহ্’র

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের যে সকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, ঠিকাদার আর পিআইসির দুর্নীতির কারণে মানুষ ফসল ঘরে তোলতে পারে নি তাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হোক। এই তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ফঁসলরক্ষা বাঁধের কোন বিল দেওয়া যাবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে ১০ টাকা কেজি ধরে চাল বিক্রির সরকারি কার্যক্রম অব্যাহত রেখে এর আওতা দ্বিগুণ করতে হবে। কৃষকের পুর্নবাসনের জন্য কৃষি ঋণ মওকুফ করে নতুন করে ঋণ বিতরণ করতে হবে। পাশাপাশি                
সরকারি জলমহালে ভাসানপানিতে কৃষকের মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার বিকাল ৩ টায় আলফাত স্কয়ারে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন অ্যাড.পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে জেলা জাতীয় পার্টি।
তিনি বলেন, বছরের একটি মাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর সুনামগঞ্জের কৃষকরা আজ দিশেহারা। মানুষ প্রতি বছর এই বোরো ফসলের পেছনে তাদের সর্বস্ব বাজি ধরে আশায় বসে থাকে এই ফসল ঘরে তোলে তার যাবতীয় চাহিদা মেটাবে।
তিনি বলেন, গত বছরও বাঁধ ভেঙে মানুষের ফসল তলিয়েছে। এবারও আশায় বুক বেধে কৃষকেরা বসেছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, একদিকে প্রকৃতি আমাদের প্রতি বিমুখ হয়েছে, অন্যদিকে কিছু দুর্নীতিবাজ আমাদের কৃষকের আহারে হাত দিয়েছে।
পীর মিসবাহ বলেন, অনেক জায়গায় সময়মত বাঁধ নির্মাণ হয়নি। ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শুরু করা হয়েছে বৃষ্টি আসার পরে। যে কারণে পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধগুলো ভাঙতে শুরু করেছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি।
জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি অ্যাড. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে ও সাজ্জাদুর রহমান সাজুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা জাতীয় পার্টি নেতা সাইফুর রহমান সমছু, আব্দুর রহমান মাস্টার, মোহাম্মদ আলী খোশনূর, আব্দুর রশিদ, মনির উদ্দিন মনির, এখলাছুর রহমান, নুরুল ইসলাম মাষ্টার, ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক, এরশাদ আহমদ, গোলাম সাদেক সিরু, ফারুক আহমদ মেনর, জসিম উদ্দিন, আব্দুল কাদির, হাবিলদার মুর্শেদ মিয়া, আব্দুল মতিন, মো.জসিম উদ্দিন, ফারুক মেনর, তুরাব আলী, ফারুক মিয়া, আবু তালিব আল মুরাদ, জামাল উদ্দিন, সাজিদুর রহমান, ডা.কুরবান আলী, সপন পাল, তোফাজ্জল হোসেন, ইউপি সদস্য মো.সোহেল মিয়া, এমদাদ মিয়া, আব্দুল হাই, মুমিন মিয়া, আনসার আলী, মুহিম উদ্দিন মুহিম, প্রতিমা রাণি, জাহানারা বেগম, রওশন আরা, নুরুল হক প্রমুখ।