হাওর নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ‘পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা দাবি করেছে হাওরের ফসলরক্ষার জন্য নির্মিতব্য ও সংস্কারযোগ্য বেশিরভাগ বাঁধেই মাটি পড়েনি। এছাড়াও তারা বাঁধে দুরমুজ না হওয়া, বালুমিশ্রিত মাটি ব্যবহার, বাঁধের কাছ থেকে মাটি তোলা, বাঁধের ঢাল বজায় না রাখা প্রভৃতি অভিযোগও এনেছে সংস্থাটি। তারা এসব বিষয়কে সামনে রেখে মঙ্গলবার বরাম হাওরের তুফানখালি বাঁধের পাড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার সর্বশেষ তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি পেরিয়ে গেছে। নির্ধারিত তারিখের পর হাওর নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থা যখন বেশিরভাগ বাঁধে মাটি না পড়ার কথা বলে তখন উদ্বিগ্ন হওয়ার সঙ্গত কারণ থাকে বৈকি। গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্নভাবে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয় তা থেকেও পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার কথিত তথ্যের সাথে মিল খোঁজে পাওয়া যায়। যেমনÑ মঙ্গলবারের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়েছে জগন্নাথপুরের কয়েকটি বাঁধে এখনও মাটি পড়েনি, অথচ ওই উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী একই সংবাদে উপজেলার বাঁধের কাজ ৮৬ শতাংশ শেষ হওয়ার দাবি করেছেন। সরকারিভাবে পুরো জেলায় বাঁধের কাজের অগ্রগতি কতটুকু তার ভাষ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে তা জগন্নাথপুর উপজেলার অনুরূপই হবে বলে অনুমিত হয়। সরকারি ভাষ্যের সাথে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার তথ্যের যে গড়মিল থাকবে তা বলাই বাহুল্য। এখন প্রশ্ন হলÑ বাঁধের কাজের গতি এত শ্লথ কেন?
হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা অন্যান্য যে অভিযোগগুলো এনেছে তাও গুরুতর। এসব অভিযোগ হাওরপাড়ের কৃষকদের মুখে মুখে প্রচলিত। বালুমিশ্রিত মাটির ব্যবহার, দুরমুজ না করা, পরিমাণমত ঢাল না রাখা, মাটি আনার জন্য ন্যূনতম ৫০ মিটার দূরত্ব বজায় না রাখা, বাঁধের শরীর ঘেষে গভীর গর্ত করে মাটি তোলা, ঘাস না লাগানো; এসব অভিযোগ বহু চর্চিত। আমাদের কাছে মনে হয়েছে এবছর বাঁধের কাজ নিয়ে তদারকির ঘাটতি রয়েছে। ২০১৭ সনের পর থেকে বাঁধের কাজে সরকারি তদারকির পাশাপাশি একটি শক্তিশালী বেসরকারি তদারকি ব্যবস্থা চালু ছিল। এবার কেন জানি বেসরকারি তদারকির ক্ষেত্রে তেমন গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। নাগরিক নজরদারির গুরুত্ব অনেক বেশি। এতে সংশ্লিষ্টরা কাজের জায়গায় ব্যাপক অনিয়ম করতে পারেন না।
বোরো ফসল হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস। পাশাপাশি হাওরে উৎপাদিত বোরো ধান দিয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হয়। সুতরাং বোরো ধানকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করা অতীব জরুরি। বাঁধের জন্য বছর বছর সরকার এ কারণেই পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। ২০১৭ সনের আগে বাঁধের বরাদ্দ কৃষক ও ফসলের সুরক্ষার বদলে কিছু অসাধু ব্যক্তির লালসার জোগানদার ছিল। ২০১৭ সনের পর ঠিকাদারি প্রথার অবসান ও পিআইসি প্রথা প্রবর্তনের পর যে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা হয়েছিল এখন তা স্থিমিত হতে চলেছে। পিআইসি প্রথাটিকে অকার্যকর করার জন্য যেন একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলমান রাখা হয়েছে বলে ইদানীং অনেকেই অভিযোগ করে থাকেন।
এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রাথমিক আলামত টের পাওয়া গেছে কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের ফলে। এখন প্রতিটি দিনই অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকরা উদ্বিগ্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকের দুশ্চিন্তা দূর করতে তথা অনাহুত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বাঁধের কাজে আর কোন সময়ক্ষেপণ কাম্য নয়। সর্বশক্তি নিযোগ করে যথাযথ মান বজায় রেখে বাঁধের কাজ শেষ করতে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড, পিআইসি ও উপজেরা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই।
- তাহিরপুরে নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ
- পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ, জড়িতদের শান্তির দাবিতে মানববন্ধন

