বাঁধ রক্ষার শেষ লড়াই চলছে শাল্লায়

বিশেষ প্রতিনিধি
কেবল শাল্লা ছিল বাকী। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার মধ্যে ১০ টি উপজেলারই প্রায় সবকয়টি (তাহিরপুরের শনি ও জামালগঞ্জের পাগনার হাওর ছাড়া) বড় হাওরের ফসল পানিতে ডুবেছে। কিন্তু শাল্লার ১০ টি বড় হাওরের ৭টি-ই ছিল ঝুঁকিমুক্ত। বৃহস্পতিবার থেকে ঐ হাওর রক্ষা বাঁধগুলোরও টলটলায়মান অবস্থায় আতঙ্কিত কৃষকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরের বাঘরাধারা বাঁধ রক্ষার লড়াই। প্রায় ৫ হাজার কৃষক বাঘরাধরা বাঁধের ৩ কিলোমিটার জুড়ে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি কাটছেন। এদিকে, সন্ধায় শাল্লার ভা-া বাঁধ উপচে ভা-া বিলে পানি ঢুকা শুরু হয়েছে।
শাল্লার একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, কালনী নদীর পানি কূল উপচে দিরাইয়ের বরাম হাওরের তুফানখালি বাঁধ ভেঙে গত শনিবার ডুবেছে বরাম হাওর। বরাম হাওর ডুবে যাওয়ায় পর পানির চাপে মাছুয়াখাড়া বাঁধ ভেঙে গিলটিয়া হাওর ডুবিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই পানির ধাক্কায় দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বৃহৎ ছায়ার হাওরের বাঘরাধরার দুটি বাঁধ এবং জয়পুরের মরা নদীর দুটি বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় শাল্লা উপজেলার শিবপুর, কল্যাণপুর, কৃষ্ণপুর, মামুদনগর, অজয়কান্দা, শশারকান্দা, উজানগাঁও, নলুয়ারগাঁও, নিয়ামতপুর, আনন্দপুর, নোয়াগাঁও, টরগাঁও, আঙ্গাউড়া, সুখলাইন, ও শান্তিপুর গ্রামের উৎকণ্ঠিত মানুষ বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন।
ছায়ারহাওর পাড়ের আঙ্গাউড়ার কৃষক ব্রজবাশি দাস বলেন,‘আমরা ৫-৬ হাজার মানুষ বান্দে (বাঁধে) কাম কররাম। ৮ টা থাকি মানুষ কামও লাগছিল। অখনও (এখনও) বান্দে পানি ওঠতে ২-৩ ফুট বাকী আছে, মনে কয় আমরা আটকাইলাইমু’।
হাওর পাড়ের মামুদনগর গ্রামের কৃষক হাবিব মিয়া পিআইসি/ঠিকাদারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন,‘আমরা যেখানো (যে স্থানে) কই (বলি), ইখানো (সেই স্থানে) না দিয়া, অন্যখানো বাঁধের কাম করে তারা’।
হাওরপাড়ের নিয়ামতপুর গ্রামের কৃষ্ণকান্ত দাস বলেন,‘বান্দে ১৫ লাখ টেকা (টাকা) আইছে, কাজ করছে দুই-আড়াই লাখ টেকার। উজানে বান্দের কাম করলে, একটা বান্দ দিলে অইলোনে, তারা ৫ টা দিছে, অখন (এখন) কোনটায়অই আটকের না।’
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ  
 চৌধুরী নান্টু বলেন, হাজার হাজার কৃষক ছায়ার হাওর রক্ষা বাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করলেও পাউবো’র কেউ বাঁধে নেই।
স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধে কাজ করা কৃষকদেরকে বাঁশ বস্তা দিয়ে সহায়তা করার জন্য বৃহস্পতিবার সকালেই বাঁধে যান সৌমেন সেন গুপ্ত।
সৌমেন বললেন,‘আমরা চেষ্টা করছি। কঠিন লড়াইয়ে পড়েছি। দিরাইয়ের সকল হাওর তলিয়ে গেছে। শাল্লার হাওরগুলো রক্ষার চেষ্টা করছি। সকলকেই এখন যার যার সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা নিয়ে কৃষকদের পাশে বাঁধের কাজে অংশ নিতে হবে।’
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আফছর উদ্দিন বলেন,‘আমরা স্পটে না থাকলেও বাঁশ বস্তা দিয়ে সহায়তা করছি। ছায়ার হাওর রক্ষা বাঁধে কাজ করার জন্য সকালে বস্তা পাঠিয়েছি। পিআইসি’র মাধ্যমে কাজের মনিটরিং করছি আমরা।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা বলেন, ‘আমি খুবই মনোকষ্টের মধ্যে পড়েছি। বাঁধ নির্মাণে আগে অবহেলা ছিল, এ কারণে অনেক স্থানেই এখন কষ্ট করতে হচ্ছে। তবে এখন প্রশাসনসহ সকলেই আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি। আমরা সবাই কৃষকদের সঙ্গেই আছি। শাল্লায় বাঁধ রক্ষার লড়াই শুরু হয়েছে। আমরা আশাবাদী।’
শাল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি পিসি দাস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় জানান, শাল্লার ভা-া প্রকল্পের বাঁধের কাজ ঠিকাদার না করায় ঐ অংশ দিয়ে ভা-া বিলে পানি ঢুকা শুরু হয়েছে এবং ভা-াবিল এর পাশাপাশি ছোট ছোট হাওরগুলো ডুবে যাচ্ছে।