জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে হাওরে শ্রমিক সংকট এড়াতে স্থানীয় শ্রমিক এবং করোনা পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়া অটোরিকশা, টমটমসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কর্মহীন মানুষদের ত্রাণ সহায়তার মাধ্যমে উৎসাহিত করে ধান কাটার কাজে লাগানোর জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে করোনভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া বাইরের এলাকা থেকে ধান কাটার শ্রমিক জগন্নাথপুরে আসতে চাইলে কোন ধরনের বাধা প্রদান করা হবে না। তারা যদি আসার পক্ষে কোন প্রতিবন্ধকতার পড়েন তাহলে স্থানীয় প্রশাসন তাদের সহায়তা করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার, জগন্নাথপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আফছর উদ্দিন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন, কাউন্সিলর সুহেল আহমদ, শিক্ষক সাইফুল ইসলাম রিপন, সাংবাদিক অমিত দেব প্রমুখ।
সভায় করোনার কারণে কর্মহীন লোকজনদের ফসল কাটার কাজে লাগিয়ে গোলায় ধান তোলা নিশ্চিত করা, অন্যস্থান থেকে শ্রমিক আসতে চাইলে তাদেরকে বাধা না দেয়া, কৃষকদের জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে দ্রুত কেটে ফেলা, প্রতিটি মসজিদে মাইকিং করে দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানানো, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে জগন্নাথপুরের পাইকারি ৭টি সবজি দোকান সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা রেখে অন্য সকল খুচরা সবজি বাজার ইকড়ছই মাদ্রাসা মাঠ এবং স্বরূপ চন্দ্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সবজি বাজার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরসহ উপজেলার প্রতিটি হাওরে পাকা আধা পাকা বোরো ধান রয়েছে। কৃষকরা শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান কর্তৃন করতে পারছেন না। একদিকে করোনার থাবা অন্যদিকে আগাম বন্যার শংকা। এঅবস্থায় কৃষকের পাশা দাঁড়াতে বেকার হয়ে পড়ার লোকজনকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, হাওরের পাকা ধান কাটতে বাহির থেকে আসা শ্রমিকদের আমরা সহযোাগিতা করব। কঠিন এই পরিস্থিতিতে শঙ্কিত কৃৃষকের কষ্টের ফসল গোলায় তোলতে আমরা বেকার কর্মহীন বিভিন্ন শ্রেনীর লোকজনকে সরকারী সহায়তার মাধ্যমে হাওরের ধান কাটার কাজে লাগাব। সেই সঙ্গে করোনার ভয়াবহতা থেকে মানুষকে নিরাপদে রাখতে আমাদের বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ২০ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। শ্রমিক সংকটে ধান কাটা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা ত্রাণসামগ্রী দিয়ে শ্রমিদেরকে ধান কাটতে মাঠে নামানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।


