বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার

স্টাফ রিপোর্টার, দিরাই
অসংখ্য জনপ্রিয় বাউল গান ও গণসংগীতের রচয়িতা বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার। কিংবদন্তিতুল্য এই বাউল স্বশরীরে আমাদের মাঝে না থাকলেও তার গান ও সুরধারা কোটি কোটি তরুণসহ সকল স্তরের মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিম মহান মুক্তিযুদ্ধে পথে পথে ঘুরে গানের মাধ্যমে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছেন, উজ্জীবীত করেছেন মানুষকে। সপ্তম মৃতুবার্ষিকী উপলক্ষে বাউলের দিরাই উপজেলার উজান ধলের গ্রামের বাড়িতে হচ্ছে দুপুরে মিলাদ মাহ্ফিল্, রাতে বসবে বাউল আসর। জেলার বিভিন্ন এলাকার বাউল ভক্তরাও নানাভাবে স্মরণ করছেন শাহ্ আব্দুল করিমকে।
‘এ দ্বন্দ্ব কেন- কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান…. আামি বাংলা মায়ের ছেলে…., স্বাধীন বাংলারে…., শোষনহীন সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা চাই…. ’সহ অসংখ্য গণজাগরণের গানের রচয়িতা বাউল শাহ্ আব্দুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনয়িনের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সমাজ পরিবর্তনের স্বাপ্নিক বাউল ছিলেন শাহ্ আব্দুল করিম। আমৃত্যু তিনি উজানধল গ্রামেই ছিলেন। অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন তিনি। গানে-গানে অর্ধ শতাব্দিরও বেশী লড়াই করেছেন ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে। এজন্য মৌলবাদীদের দ্বারা নানা লাঞ্চনারও শিকার হয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কোটি ভক্তকে ছেড়ে চলে যান এই বাউল। প্রতি বছরের মতো এবারও গণ-মানুষের প্রিয় এই বাউলের মৃত্যুবার্ষিকীকে ঘিরে তাঁর ভক্ত বাউলরা সমবেত হচ্ছেন তাঁর বাড়িতে।
বাউলরা বলেছেন,‘যেহেতু গান, গানে মিলে প্রাণের সন্ধান। বাউল শাহ্ আব্দুল করিম, রাধারমণ, হাসনরাজা, লালন শাহ্’সহ গুণী শিল্পীদের গান গ্রামে গ্রামে, শহরে-নগরে ব্যাপক ভাবে গাওয়া হলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থাকবে না’।
বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের গানে শরিয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারফত সকল ধারাই ছিল, শাহ্ আব্দুল করিমসহ বাউলদের গানের চর্চা বাড়ালে সন্ত্রাস দূর হতে বাধ্য বললেন শাহ্ আব্দুল করিমের সঙ্গি- বাউল মকরম শাহ্।