আকরাম উদ্দিন
গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার ইলিশের সরবরাহ বাজারে বেশি। সারা দেশে বড় আকারের ইলিশ মাছ সহনীয় দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। ঢাকার বাজরে এক কেজির উপরের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি দরে। ছোট আকারের ইলিশের দাম এর চাইতে অনেক কম। ২০০ টাকা কেজি দরেও ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার বাজারে দাম কম থাকলেও সুনামগঞ্জে কমছে না ইলিশের দাম। শনিবার সুনামগঞ্জ মাছ বাজারে প্রচুর ইলিশ উঠেছে বলে দেখা যায়। কিন্তু দাম বেশি বলে জানালেন অনেক ক্রেতা। ফলে ইলিশ কিনতে আসা বহু ক্রেতাকে মন খারাপ করে ফিরে যেতে দেখা যায়।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জে ১ কেজি ওজনের ইঁলিশের দাম ৮০০ শত টাকা, আধা কেজি বা তার চেয়ে কম ওজনের ইঁলিশের দাম ৭শত, ৬শত এবং ৫শত টাকা কেজি হিসাবে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
ইঁলিশের ক্রেতা হোসেন আহমদ বলেন, ‘আমি ইঁলিশ কিনতে গিয়েছিলাম বাজারে। কিন্তু কিনতে পারিনি দর বেশি। অন্যান্য জেলার তুলনায় সুনামগঞ্জের বাজারে সারা বছর ইঁলিশের দাম বেশি থাকে। অথচ মাছের জেলা সুনামগঞ্জ। এই হিসাবে আমরা গর্বিত। অথচ মাছ কিনে আনতে বাজারে গেলে বুঝা যায়, আমরা কত যে গর্বিত।’
ইঁলিশের ব্যবসায়ী জমির হোসেন বলেন, ‘আমি প্রতি তিন দিনে ২০০ কেজি চানপুরী ইঁলিশ ঢাকা থেকে আমদানী করি। এই ইঁলিশ বিক্রি করতে যায় ৩-৪ দিন। আমার ইঁলিশের প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা। এর ছোট আকারের ইঁলিশের কেজি ৭০০ টাকা বিক্রি করি। প্রতি দিন প্রায় ৫০ কেজি ইঁলিশ বিক্রি করতে পারি আমি।’
ইঁলিশের ব্যবসায়ী সুনু মিয়া বলেন, ‘আমি ইঁলিশ বরিশাল ও চিটাগাং থেকে আমদানী করি। আমি প্রতিদিন প্রায় ৬০ কেজি বিক্রি করতে পারি। আমার ইঁলিশের প্রতি কেজি ৫শত, ৬শত ও ৭শত টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। আমাদের সাথে আরও দুইজন ইঁলিশের ব্যবসায়ী রয়েছেন, আদিল মিয়া ও ইদ্রিছ মিয়া। আমরা সবাই এমন দরেই ইঁলিশ বিক্রি করে আসছি।’
বাজারে ইলিশ কিনতে আসা সরকারি কর্মকর্তা অসীম তালুকদার বললেন, ‘পত্রিকায় ঢাকার বাজারে ইলিশের মূল্য হ্রাসের খবর পেয়ে বাজারে এসেছিলাম। কিন্তু বাজারে এসে ৮০০ টাকা কেজির নিচে মোটামোটি ওজনের ইলিশ কিনতে পারছি না। দামের এত ব্যবধান থাকা উচিৎ নয়। ইলিশের দর সম্পর্কে সরকারি নজরদারি বাড়ানো উচিৎ।’


