বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের বানভাসি মানুষের জন্য ঈদ আরেক কষ্ট নিয়ে এসেছে। তবে উঁচু সড়ক, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঈদ উপলক্ষে কেউ কেউ বাড়ি ফিরেছেন সন্তান সন্ততি নিয়ে। বাড়ি ফিরা এসব মানুষের অনেকের চুলোয় এখনো আগুন জ¦লেনি। অপেক্ষাকৃত সামর্থবান ও গ্রামের ধনি মানুষজনের আশ্রয়েই আছেন এরা ঈদের দিনও।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণ্রশ্রী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের হেলেনা, সখিনা, আজিম উদ্দিন, আমিনুল ইসলামসহ ৬০ টি বসতবাড়ি থাকার উপযোগি নয়। ঈদ উপলক্ষে এদের কেউ কেউ বাড়ি ফিরেছেন। গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ সখিনা বেগম তাদের একজন।
সখিনা বাড়ি ফিরলেও বেলা সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত তার চুলোয় আগুন জ¦লেনি। বললেন, ছেলে একটি নতুন কাপড় এনে দিয়েছি, ওটা পড়েছি, এখনো খাওয়া হয় নি কিছুই। আগে সকল সন্তানরা মিলে কোরবানি দিতো। এবার হাড়ি, পাতিল, চাল, চুলো কিছুই নেই। কোরবানি দেবারও সামর্থ নেই।
সখিনার পাশে দাঁড়ানো হেলেনা বেগম জানালেন, গেল কোরবানির ঈদে গ্রামে ২০ টি গরু কোরবানি দেওয়া হয়েছিল। এবার তিন পরিবার কোরবানি দিয়েছে। তারা অন্যদের মাংস দেবে কি না, এখনো জানেন না। কেউ মাংস না দিলে কোরবানির গোস্ত পেটে পড়ার কোন উপায় নেই তাদের। নিজের বা বাচ্চার নতুন কাপড়ছোপড় দেবার চিন্তাও মাথাই নেই।
সেনাবাহিনীতে চাকুরি করেন গ্রামের নূর আলম। গ্রামবাসীর এই দুঃসময়ে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি এসেছেন। বললেন, কোরবানির গোস্ত’এর চিন্তা করছি না, ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি মেরামত ও ভেসে যাওয়া আসবাবপত্র ও বাসনকোসনের ব্যবস্থা করে স্বজনদের বাড়ি ফেরানো যায় কি না, সেই চিন্তায় আছি।
গত ১৬ জুনের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের ২৮৮৮ গ্রামের কমপক্ষে ২০০০ গ্রামেরই এমন চিত্র।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, অন্যান্য সহযোগিতা ছাড়াও ঈদের আগের দিন একলাখ ২০ হাজার মানুষকে ভিজিএফ’এর চাল দেওয়া হয়েছে। ঈদের সকাল থেকে দুটি গরু জবাই করে, সঙ্গে চাল, ডাল, তেল, শেমাইয়ের ৫০০ পেকেট নিয়ে মানুষের দরজায় দরজায় যাচ্ছেন তারা।
- ত্রাণ চাওয়াকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ
- বিশ্বম্ভরপুরের শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠনসমূহের সংবাদ সম্মেলন


