স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে নৃশংস কায়দায় শিশু তুহিন মিয়া (৫) হত্যা মামলায় তুহিনের বাবা ও তিন চাচার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন হয়েছে। মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদারের আদালতে এই অভিযোগ গঠন হয়। মামলার অপর আাসমি তুহিনের চাচাতো ভাই সাহারুল ওরফে শাহরিয়ার শিশু হওয়ার তার বিচারকার্য শিশু আদালতে হবে।
তুহিন হত্যা মামলায় গত ৩০ ডিসেম্বর তুহিনের বাবা আবদুল বাছির (৪০), চাচা নাসির উদ্দিন (৩৫), আবদুল মছব্বির (৪৫) ও জমসেদ আলী (৬০) এবং চাচাতো ভাই সাহারুলের (১৭) বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোপপত্র দেয় পুলিশ। সাহারুল শিশু হওয়ার তার বিরুদ্ধে শিশু আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
গত ১৩ অক্টোবর রাতে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে এই নৃশংস হত্যকা-ের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছের ঢালে ঝুলন্ত অবস্থায় তুহিনের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। তুহিনের গলা, দুই কান ও যৌনাঙ্গ কাটা ছিল। পেটে বিদ্ধ ছিল দুটি ছুরি।
এ ঘটনায় তুহিনের মা মনিরা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। এরপর পুলিশ তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, চাচা নাসির উদ্দিন, আবদুল মছব্বির ও জমসেদ আলী এবং চাচাতো ভাই সাহারুল ওরফে শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ আবদুল বাছির, নাসির উদ্দিন ও সাহারুলকে রিমান্ডে নেয়। পরে নাসির উদ্দিন ও সাহারুল আদালতের স্বীকারোক্তিমুলক জবাববন্দী দেন। পুলিশের তদন্তে এই পাঁচজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার তিনদিন আগে আসামিরা এই হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকা-ের ঘটনার আড়াই মাসের
মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। গ্রামে থাকা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই তুহিনের পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।।
মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে বাদী পক্ষে ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শামসুন্নাহার বেগম শাহানা। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
- জামালগঞ্জে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ঝুনু মিয়ার বিরুদ্ধে ফের তদন্ত
- সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উৎসব ৭-৮ ফেব্রুয়ারি


