এস ডি সুব্রত
বাবা নামক যুগল অক্ষরের মাঝে লুকিয়ে আছে অফুরান ভালবাসা। আছে নির্ভরতা, আস্থা এবং আদর সোহাগ। বাবা মানে গ্রীষ্মের খরতাপে বটবৃক্ষের সুশীতল ছায়া। বাবা মানে বর্ষার অঝোর ধারায় এক বর্ষাতি ছায়া। বাবা মানে এক বিশাল আকাশ যেখানে বিচরন করা যায় অবাধে সকল ব্যাথা বেদনা মনোবৈকল্য ভুলে।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা বাবার ভালবাসার আকাশ। বাবা কে জার্মান ভাষায় ‘ফ্যাটায়া’, চীনা ভাষায় ‘বা’ , ইংরেজি ভাষায় ফাদার বা ডেড ইত্যাদি নানা নামে নানা দেশে ডাকা হয়। তবে বাবা কে যে নামেই ডাকা হোক না কেন বাবা মানেই মাথার উপর এক বিশাল আকাশ। একটি শিশুর জন্মের পর থেকে তার মুখ থেকে বেড়িয়ে আসা নানা শব্দের মধ্যে অন্যতম একটি শব্দ বাবা। বাবা দুটি অক্ষরের একটি শব্দ হলেও এর বিশালতা ব্যাপক। বাবা সন্তানকে সন্তানকে বড় হতে শেখায়, চলতে শেখায়, বুঝতে শেখায়। বাবা ভরসা দেয়, সাহস দেয়, দেয় মমতা, দেয় অকৃত্রিম ভালবাসা। বাবার আদর সোহাগ ও শাসনে সন্তান হয়ে উঠে পরিপূর্ণ মানুষ। বাবু ছাড়া জীবন কতটা অসহায় এবং ধূসর মরুভূমি সেটা বাবা হারানো সন্তান টের পায় হাড়ে হাড়ে। যে মানুষটির অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টায় সন্তানের নিরাপদ জীবন গড়ে উঠে তিনি হলেন বাবা। বাবা সন্তানের কাছে কিছু চায় না, সন্তানের হাসিমাখা মুখ দেখলেই বাবা ভুলে যান সময় দুঃখ ব্যথা। মমতার আড়ালে বাবার মধ্যে লুকিয়ে থাকে এক রাশভারী চেহারা যা সন্তানের সঠিক ভাবে বেড়ে উঠার জন্য খুবই জরুরি। সন্তানের সকল চিন্তা থাকে বাবার মাথায় আর সন্তান থাকে চিন্তা মুক্ত বাবার কাঁধে ভর করে। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে বাবা তার সমস্ত উজার করে দেন। নিজের জন্য কিছু কিনতে গেলে বাবা হয়ে উঠেন পৃথিবীর সবচেয়ে কিপটে মানুষ, আর সন্তানের জন্য কিছু কিনতে গেলে বাবা হয়ে উঠেন সবচেয়ে বেহিসেবি মানুষ। বাবা মানে আশ্রয়, বাবা মানে এক সীমাহীন আকাশ যেখানে সন্তান উড়ে বেড়ায় পরম আনন্দে।
বাবা দিবস এর উৎপত্তি নিয়ে বেশ কিছু গল্প বা কাহিনী প্রচলিত আছে। এ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা গুলির মধ্যে সেনোরা লুইস স্মার্ট এর কাহিনীটা বেশী গ্রহণযোগ্য। ওয়াশিংটনের সেনোরা লুইস স্মার্ট এর মাধ্যমেই বাবা দিবসের প্রচলন শুরু হয়। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাল মিলিয়ে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালন করা হয়।
উইলিয়াম স্মার্ট ছিলেন একজন সৈনিক। তার ষষ্ঠ সন্তান সেনোরা লুইস স্মার্ট এর জন্মের সময় তা মা অর্থাৎ উইলিয়াম স্মার্ট এর স্ত্রী মারা যায়। অনেক কষ্টে ছয় সন্তান কে মানুষ করেন উইলিয়াম স্মার্ট। বাবার এই ত্যাগ আর কষ্টের কথা ভুলে যাননি সেনোরা লুইস স্মার্ট। ১৯০৯ সালে সেনোরা গীর্জায় একটা অনুষ্ঠানে মা দিবস এর কথা জানতে পারেন। তার বাবার কষ্টের কথা ভেবে তিনি বাবাদের জন্য একটি দিবসের কথা চিন্তা করেন। সেনোরা প্রথম এলাকার ধর্ম যাজকদের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করেন। ধর্ম যাজকগন তার সাথে এক মত পোষণ করেন। ওয়াশিংটনে ১৯০৯ সালের পাঁচ জুন ধর্ম যাজকদের কাছে ১৯ জুন বাবা দিবস পালনের আবেদন জানান সেনোরা। সময় কম থাকায় ১৯০৯ সালে শুধুমাত্র ওয়াশিংটন-এ ১৯ জুন বাবা দিবস পালন করা হয়। সম্ভবত ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথম বাবা দিবস পালন করা হয় অনানুষ্ঠানিক ভাবে। ১৯১৩ সালো যুক্তরাষ্ট্রের সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণার বিল তোলা হয়। ১৯১৬ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন বিলটি অনুমোদন করেন। সর্বশেষ ১৯৬৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন রাষ্ট্রীয় ভাবে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবাদিবস বলে ঘোষণা দেন। এর ছয় বছর পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এ বিষয় টি কে আইনে পরিণত করেন। সেই থেকে বাবা দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে।
বাবা দিবসে বাবাকে নিয়ে কয় আবেগ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করি আমরা। যে মানুষ জন্মের আগ থেকেই সন্তানের জন্য ভাবতে থাকেন, আর জন্মের পর সমস্ত ভালবাসা ও শ্রম দিয়ে সন্তান কে গড়ে তোলেন।
বাবা কে বলা হয় গ্রেট ওয়াল বা আকাশ জোড়া ছাদ।যে বাবা বুকের ওম দিয়ে সারা বছর আগলে রাখে সন্তান কে, আমরা অনেকেই অবলীলায় পর করে দেই বাবা কে শেষ বয়সে। তখন বাবার কোন কথা মনোযোগ দিয়ে আমরা যেন শুনতে চাই না। শুধু বাবা দিবসে নয়, প্রতিদিন ভালবাসি বাবা কে।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।
- স্যানক্রেডের উদ্যোগে এসডিজি অর্জনে স্থানীয় পর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন
- তাহিরপুরে বালিকা অনুর্ধ্ব ১৭ চ্যাম্পিয়ন দলকে সংবর্ধনা


