বারকি শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা ও রেশন প্রদানের দাবি

রেজিষ্ট্রার্ড ট্রেড ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৩৫৫ কর্মহীন বালি-পাথর উত্তোলনকারী বারকি শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা ও রেশন প্রদানের দাবি জানিয়েছে। বারকি শ্রমিক সংঘের সভাপতি নাসির মিয়া স্বাক্ষরিত জেলা প্রশাসকের নিকট দাবিতে জানানো হয়, সুনামগঞ্জ জেলার ধোপাজন চলতি নদী ও যাদুকাটা নদী সংলগ্ন সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার কয়েক হাজার শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব প্রাকৃতিক উপায়ে হাতের সাহায্যে উজান থেকে নেমে বালি-নূড়ী পাথার উত্তোলন করা। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে এক শ্রেণির নদীখেকোচক্র অবৈধ বোমা ও ড্রেজার দিয়ে আগ্রাসীভাবে পরিবেশ ধ্বংস করে বালি-পাথর উত্তোলন করে চলেছেন। যার কারণে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় সৃস্টি হয়ে নদীর তীরের উভয় পাশের বাড়িঘর, হাটবাজার ও ফসলিজমি ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে বোমা-ড্রেজারের আগ্রাসী তান্ডবে ২০ ফুটের বেশি নদীর গভীরতা সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ বারকি শ্রমিকদের পক্ষে আর প্রাকৃতিক উপায়ে হাতের সাহায্যে বালি-পাথর উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে দীর্ঘদিন থেকে বালি-পাথর উত্তোলনকারী সাধারণ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বারকি শ্রমিকদের দুরাবস্থার কথা জানিয়ে আমরা একাধিকবার জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাইনি। ফলে বারকি শ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বালিপাথর উত্তোলনসহ নানা পেশায় নিয়োজিত হয়ে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হন। এরকম অবস্থায় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের(কোভিড-১৯) প্রাদূর্ভাবে সৃষ্ঠ মহামারি মোকাবেলায় সরকার গত ২৬ মার্চ ২০২০ হতে ১০ দিনের জন্য সরকারি, বেসরকারি অফিস-আদালত, মার্কেট-দোকানপাট, গণপরিবহণ বন্ধ ঘোষণা করে সর্বস্তরের জনসাধারণকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঘরে থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। সরকারি এই নির্দেশনা আগামী ২৫ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে, যা আরও বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার বারকি শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে ঘরে ফিরে আসতে বাধ্য হন। যার কারণে কয়েক হাজার বারকি শ্রমিক বেকার হয়ে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। গত দুই সপ্তাহ কোন রকমে ধার দেনা করে চলতে পারলেও বর্তমানে আর কোন ভাবেই দিনাতিপাত করা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে সরকারি বন্ধ ঘোষণার সাথে সাথেই এলাকার উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনসাধারণ হুমড়ি খেয়ে বাজারে এক-দুই মাসের নিত্যপণ্য কিনে রাখেন। যার প্রভাবে একদিকে যেমন নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি আগে যে পরিচত দোকান থেকে বাকি কিনে চলতে পারছিলাম বর্তমানে সেই দোকান থেকে বাকিও মিলছে না। সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার বারকি শ্রমিকদের বর্তমান দুরাবস্থার কথা বিবেচনা করে কোন রকমে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা এবং রেশন প্রদান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কৃতার্থ করবেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি