স্টাফ রিপোর্টার
কিশোরীকে বিয়ে করার ও বিয়ে দেয়ার অপরাধে মেয়ের বাবা, বর, বরের ভগ্নিপতি ও উকিল পিতাকে কারাদ- প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বিকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার জনকে পৃথক দ-াদেশ দেন।
দ-প্রাপ্তরা হলেন, বর দোয়ারাবাজার উপজেলার রাজনপুর গ্রামের মো. সাদক আলীর ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), বরের অভিভাবক (ভগ্নিপতি) রাজনপুর গ্রামের ফকর উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন (৩৫), কনের পিতা সুনামগঞ্জ শহরতলীর জলিলপুর গ্রামের পীর সামছুল হক (৫০) ও একই গ্রামের বাসিন্দা বিয়ের উকিল পিতা খোরশিদ আলীর ছেলে মছব্বির আলী (৪৮)। বিয়ের উকিল পিতা মছব্বির আলীকে ১৫ দিনের কারাদ- ও বর, বরের ভগ্নিপতি ও কনের পিতাকে এক মাসের কারাদ- প্রদান করা হয়। দ-াদেশ প্রদানের পর বিকালে সবাইকে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা যায়, বুধবার দুপুরে জলিলপুর গ্রামের এক কিশোরীর বিয়ের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এই বিয়ে বন্ধ করার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এক কলেজ ছাত্রী মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। ফোনের সূত্র ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক ছুটে যান জলিলপুর গ্রামে। সেখানে গিয়ে জানতে পান ওই কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিশোরীর জন্ম সনদ দেখতে চান। এসময় কিশোরীর অভিভাবক ১৯ বছর বয়সের প্রমাণসরূপ একটি জন্ম সদন দেখান। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সন্দেহ হলে ওই কিশোরীর সমাপনী পরীক্ষা পাশের সনদপত্র দেখতে চান। ওই সনদ অনুযায়ী কিশোরী বয়স ১৪ বছর দেখতে পান তিনি। তাৎক্ষণিক পুলিশের সহায়তায় কনের বাবা, বিয়ের উকিল পিতা, বর ও বরের অভিভাবককে (ভগ্নিপতি) আটক করে নিয়ে আসা হয়। এসময় বিয়ে পড়ানোর কাজীকে খোঁজে বের করার চেষ্টা করেন ইউএনও। কিন্তু বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যান পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাজী ফায়জুল করিম। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সবাইকে পৃথক কারাদ- প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজী ফায়জুল করিমের লাইসেন্স বাতিল করার জন্য সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেন।
কারাদ- প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী বলেন,‘ কিশোরীকে বিয়ে করা ও বিয়ে দেয়ার অপরাধে বর-কনের অভিভাবসহ ৪ জনকে পৃথকভাবে কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। বাল্য বিয়ে পড়ানোর অভিযোগে স্থানীয় কাজীর লাইসেন্স বাতিলের জন্য সাব রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


