ধর্মপাশা প্রতিনিধি
রিনা বেগমের নিজের কোনো জায়গা জমি নেই। স্বামীও বেঁচে নেই। ঘর বানিয়ে বসবাস করতেন আমির হোসেন নামের এক মামাতো ভাইয়ের জায়গায়। সম্প্রতি সেই জায়গার মালিকানা নিয়ে আমির হোসেনের সাথে স্থানীয় ফসর আলী নামের এক প্রতিবেশীর দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে ফসর আলীর লোকজনের হামলায় ভেঙ্গে যায় রিনা বেগমের ঘর। ফলে রিনা বেগম হয়ে পড়েন গৃহহীন। তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় নেন অন্যের বাড়িতে। রিনা বেগম মধ্যনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের মৃত মারফত আলীর স্ত্রী।
এদিকে অসহায় রিনা বেগম বুধবার দুপুর থেকে স্থানীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তিনি বাসস্থানের দাবিতে দুই নাতীকে নিয়ে বসেন আমরণ অনশনে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটু খবর পেয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছুটে আসেন এবং তিনি পানি ও জুস পান করিয়ে তাকে (রিনা) বাসস্থানসহ সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনশন ভাঙান। পরে ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় গণ্যমান্যদের জিম্মায় রিনা বেগমকে গ্রামে পাঠান।
রিনা বেগম বলেন, ‘আমার মাথা গোঁজার ঠাই নাই। ঘর ভেঙে ফেলায় অন্যের বাড়িতে কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে।’
ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটু বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে রিনা বেগমের নিরাপত্তা ও তার বাসস্থানের সুব্যবস্থা করে দেওয়ার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মধ্যনগর থানার ওসি মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘ঘর ভাঙার ঘটনায় আমরা দুইজনকে আটক করি। পরে তিনি (রিনা) অভিযোগ দায়ের করলে নিয়মিত মামলা হয়। পরবর্তীতে তারা (আটককৃত) জামিনে মুক্ত হয়। যদি তার (রিনা) নিরাপত্তা বিঘিœত হয় তাহলে সব রকম নিরাপত্তা দেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘ওই নারী যদি প্রকৃত গৃহহীন হয়ে থাকে তাহলে তাকে ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’
- শাল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে কর্মশালা
- ‘নেত্রী যাকে প্রার্থী দেবেন তাঁর পক্ষে কাজ করব’


