বাড়ছে করোনা, নেই স্বাস্থ্য সচেতনতা

স্টাফ রিপোর্টার
বৈশিক মহামারি করোনা প্রতিরোধে সুনামগঞ্জ পৌর শহরে জনসাধারণের মাঝে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। রাস্তা ঘাটে বেশিরভাগ মানুষকে মাস্ক ছাড়া চলাচল করতে দেখা গেছে। এমনকি শহরের ভেতরে চলাচল করা গণপরিবহনগুলোর একই অবস্থা। ৬০ ভাগ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও মাস্ক ছাড়াই চালক- যাত্রীরা চলাচল করছেন। দোকানীদেরও মুখে নেই মাস্ক।
শনিবার সকাল থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সিএনজি, অটো, রিকশা মোটর সাইকেলের চালকরা মানছেন না স্বাস্থবিধি। যাত্রী ও পথচারিদের মাঝে কিছু স্বাস্থ্য সচেতনতা থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ এসবের তোয়াক্কা করছেন না। এতে যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন তারাও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসক ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের জনসমাগম (সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়) বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনও সামাজিক অনুষ্ঠান সহ পর্যটন স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের আগমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়াও মসজিদসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রার্থনায় অংশ গ্রহণ, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং ধারণ ক্ষমতার ৫০ ভাগের অধিক যাত্রী পরিবহন না করা, বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিন পর্যন্ত নিজ বাসায় কোয়ারেন্টিন থাকা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়- বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা, শপিং মলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, অপ্রয়োজনীয় ঘুরাফেরা বা আড্ডা বন্ধ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। শহরে এসব বিধি নিষেধ জারি থাকলেও মানছেন না কেউ। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই চলছে মানুষের কার্যক্রম। এতে সংক্রামন বেড়ে যাওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মল্লিকপুরের নতুন বাসস্ট্যান্ড টিকিট কাউন্টারের ম্যানাজারসহ যারা টিকিট বিক্রি করছেন তাদের মুখে মাস্ক নেই। অনেক যাত্রীদেরও মুখে মাস্ক নেই। বাসে অর্ধেক যাত্রী তুলছেন তারা। কাউন্টারের আশেপাশে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ ভাগ ভাড়া বৃদ্ধি করে যাত্রী সেবা দিচ্ছেন তারা।
শহরের অভ্যন্তরে যাত্রী সেবা দেয়া অটো, সিএনজি ও রিকশাতে অর্ধেক যাত্রী নেয়ার বিধি নিষেধ মানছেন না তারা। ইচ্ছেমত যাত্রী পরিবহন করছেন। তবে অনেক চালক মুখে মাস্ক পড়ছেন, যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছেন দ্বিগুণ ভাড়া।
জেলা শহর থেকে উপজেলা শহরে চলাচলের বাহন মোটর সাইকেলেও ৩ জন করে চলাচল করছেন যাত্রীরা। এসব যাত্রী ও চালকদের মুখে নেই মাস্ক। রেস্টুরেন্টে আসন সংখ্যা কমানো নির্দেশনা থাকলেও মানছেন মালিকরা। শহরের বড় দুই রেস্টুরেন্ট পানসি ও রোজ গার্ডেন আগের মতোই আসন সংখ্যা দেখা গিয়েছে।
শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার দোকানী জ্যোতিলাল রায়। তার মুখেও মাস্ক নেই। তিনি জানালেন, আগে এক প্যাকেট মাস্কের দাম ছিলো ৬০ টাকা। গত ২ দিন ধরে হয়ে গেছে ১২০ টাকা। দ্বিগুণ দামের জন্য মাস্ক বিক্রি করছেন না। নিজেও ব্যবহার করছেন না।
সিএনজি চালক আলাল উদ্দিন। মুখে মাস্ক পড়েছেন। যাত্রী তুলছেন অর্ধেক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিএনজি চালাচ্ছেন বলতেই তিনি বলেন, পুলিশের ভয়ে মাস্ক পড়েছি। আমার সিএনজিতে ৫ জন যাত্রী নেয়া যায়। এখন নেই ৩ জন। ভাংতি টাকা না থাকায় ৫ টাকার ভাড়া নিচ্ছি ১০ টাকা।
সুনামগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনেই বাস চালাচ্ছি। অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে নিচ্ছি না। আমাদের টিকিট কাউন্টারের সকল কর্মী সহ যাত্রীদের মাস্ক নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। নয়ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। সুনামগঞ্জে ৪২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় রয়েছেন ৩৫ জন। আর ৭ জন ছাতক উপজেলার।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা প্রথমে নির্দেশনা দিয়ে শতর্ক করেছি। এখন যারা নির্দেশনা মানবে না তাদের কে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হবে। করোনা ভাইরাই সংক্রমন রোধে সরকারি যেরকম নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো সবাই মানছেন কিনা তা নজরদারিতে নিয়ে আসা হবে।