বিএডিসি’র সর্ববৃহৎ মিছাখালি রাবার ড্যামের উদ্বোধন আজ

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ রাবার ড্যামের (সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিছাখালী রাবার ড্যাম) নির্মাণ কাজ শেষ। আজ শনিবার সকাল ১০ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে এই রাবার ড্যাম উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন, সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামসুন নাহার বেগম, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন, বিএডিসি’র সদস্য পরিচালক (ক্ষুদ্রসেচ) ড. মো. সাইদুর রহমান সেলিম। এসময় মিছাখালী রাবার ড্যামের উপকারভোগী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সুধীজনরা উপস্থিত থাকবেন।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের মিছাখালী নদীতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ এই রাবার ড্যাম। বিএডিসির উদ্যোগে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির উপর ৫৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে বোরো ফসল অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢল থেকে রক্ষা করতে ৫ স্প্যান বিশিষ্ট ২২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন দেশের বৃহৎ এই রাবারড্যামটির নির্মাণ করেছে ঢাকার সেগুন বাগিচার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কেবিআইএমএমকে। রাবার ড্যামের উপরে ৫ স্প্যান বিশিষ্ট ২২০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত. গত ৩ রা মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকালে মিছাখালী রাবার ড্যামের নির্মাণাধিন ব্রিজের শেষ অংশের একটি স্প্যান  হঠাৎ ধসে পরেছিল। নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ও কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়ায় কাজ চলাকালীন সময়েই একটি অংশ ধসে পড়েছে বলে তাৎক্ষণিক দাবি করেছিলেন স্থানীয়রা। ধসের ঘটনায় ৬ শ্রমিকও আহত হয়েছিলেন। এঘটনায় ঐ দিন রাবার ড্যাম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল- সমাবেশও করেছিলেনন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন। মিছিল-সমাবেশে ঠিকাদারের শাস্তিও দাবি করা হয়েছিল।
এনিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ ছাপা হলে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ঐ দিনই বিষয়টি কৃষিমন্ত্রীকে অবগত করলে সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করার নির্দেশ দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. আব্দুর রৌফ, কমিটির সদস্য বিএডিসি (ক্ষুদ্র সেচ) এর পরিচালক মো. সাইদুর রহমান সেলিম, আইএমইডি পরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সুব্রত ভৌমিক, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বিএডিসি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ফারুক হোসেনকে। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে সরেজমিনে ঘুরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর রাবারড্যাম নির্মাণকালে দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী আবু আহমেদ মাহমুদুল হাসান ও উপ সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অবশ্য পরে রাবার ড্যামের নির্মাণাধিন ব্রিজের শেষ অংশের একটি স্প্যান  মেরামত করা হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. আব্দুর রউফ বলেছিলেন,‘তদন্তকালে জেনেছি নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণে বিএডিসির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগণের এবং ঠিকাদারের প্রকৌশলীরও গাফিলতি ছিল, তারা কেউই ওখানে উপস্থিত ছিল না, ঠিকাদারের পক্ষে যিনি ওখানে ছিলেন, তিনিও দক্ষ কেউ নন। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পাথর, বালুসহ অন্যান্য উপকরণ যথেষ্ট মানসম্পন্ন ছিল না’। তদন্ত রিপোর্ট দেখে মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ও সচিব মহোদয় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।