প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে রবিবার অনুষ্ঠিত বিএনপি প্রতিনিধি দলের সংলাপের পর বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জাতিকে কিছুটা আশ্বস্থ করবে। সিইসি নূরুল হুদা দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা তথা দেশের উন্নয়নে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও বর্তমান সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছেন। বিএনপি প্রতিনিধি দলও মন খুলে তাঁর সাথে আলোচনায় অংশ নেন। সংলাপ থেকে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের খুব বেশি কিছু করার নেই। তারপরও এই সংলাপের পর বিএনপি কিছুটা আশাবাদী তো বটেই’। বিএনপি নির্বাচন কমিশনে ২০ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে। যার মধ্যে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রধান। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দেশের সংবিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই, এটি বিএনপিও বুঝে। তারপরেও তারা এ প্রস্তাব উত্থাপন করেছে মূলত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। এই ইস্যু নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে মহা বিতর্ক কয়েক বছর ধরে চালু রয়েছে কিন্তু আশু সমাধানের কোন লক্ষণ নেই। সুপ্রিম কোর্টের রায় ও সংবিধান সংশোধনের ফলে বর্তমানে বহাল সাংবিধানিক ব্যবস্থায় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কোন ব্যবস্থা নেই। অথচ এই দাবি পূরণ না হওয়ায় গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কারণে সাংগঠনিকভাবে দেশের অন্যতম প্রধান এই দলটি কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে ক্রমাগত আলাপ আলোচনা হচ্ছে। এবারও যদি এই ইস্যুকে সামনে রেখে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ খোদ সংগঠনটিই অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যেতে পারে, এমন অভিমত অনেকের। সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপের পর বিএনপির ‘আশাবাদী’ মন্তব্য করার বিষয়টি আমাদেরকেও যুগপৎ আশাবাদী করে তুলেছে। দেশের তাবৎ মানুষ চায় বিএনপি নির্বাচনে আসুক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা নিক। নির্বাচনে অংশ না নিলে এই নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক কোন প্রতিক্রিয়া দেখানোর নৈতিক অবস্থান থাকে না, এটি বিএনপি নেতৃত্বকে বুঝতে হবে। সুতরাং খেলায় অংশগ্রহণ করেই যে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে হয়, বোধ করি বিএনপি সেটি বুঝতে পেরেছে।
বিএনপির সাথে এই সংলাপটি নিয়ে স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো নির্বাচন কমিশনও নিশ্চয়ই বেশ চিন্তায় ছিলেন। তারা অবশ্যই এ নিয়ে যথেষ্ট গ্রাউন্ড ওয়ার্কও করেছেন। অবশেষে আপাতদৃষ্টিতে সংলাপটি সফল হয়েছে, এইটুকু তাদের সফলতা। নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের আস্থা অর্জন করা এবং তাদেরকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ করানো। সকলের জানা বিএনপিহীন যেকোন জাতীয় নির্বাচন পরিপূর্ণতা পায় না। এই অবস্থায় বিএনপির আস্থা অর্জনে যে সিইসি যথেষ্ট সতর্ক থাকবেন তাতে আর আশ্চর্য কি। আমরা বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করার নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের সফলতা কামনা করি সামনের জাতীয় নির্বাচনটিকে অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য করার স্বার্থে।

