বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় নেই দায়িত্বশীল নেতাকর্মী

বিন্দু তালুকদার
৬ষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ৪ জুন। জেলার চারটি উপজেলার ২৬ ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে ওই দিনে। নির্বাচনের আর মাত্র ১২ দিন বাকী। তবে এই প্রথম চেয়ারম্যান পদে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়ায় অনেকেই মাঠে কাজ না করেও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আবার অনেকেই দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করেও মনোনয়ন পাননি। একজন মনোনয়ন পেলে অন্যজন নাখোশ হয়েছেন। এর প্রভাব পড়ছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায়।
বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অভিযোগ উঠেছে, দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা ও
গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন না উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতারা। উল্টো বিদ্রোহী প্রার্থীকে গোপনে ও প্রকাশ্যে সহায়তা করছেন অনেকে। এতে করে দলীয় প্রার্থীরা বেকায়দায় পড়ছেন।
জামালগঞ্জের সাচনাবাজার ইউনিয়নের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুক মিয়া, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউপির দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মহন মিয়া বাচ্ছুর সাথে দলের নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত দুই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাম না ছাপানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন,‘দলীয় মনোনয়ন পেতে যে চাপ সইতে হয়েছে তা রাজনীতির জীবনেও হয়নি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর নতুন সমস্যায় পড়েছি। যারা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাদের অনেকেই প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশ নেন না। এসব বিষয়ে উপজেলা ও জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দও কিছুই বলছেন না। এমনকি তারাও আমাদের সাথে কোন ধরনের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। মনোনয়ন প্রদান করেই তাদের দায়িত্ব শেষ।
মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউপির বিএনপির দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী সবুজ মিয়া বলেন,‘ এখনও জেলা-উপজেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণায় আসেননি। তবে আগামী বুধবার আমার ইউনিয়নে মোতালেব খান ও ডা. রফিক চৌধুরী প্রচারণায় আসবেন বলে জানিয়েছেন। জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ হচ্ছে, তারাও আসবেন।’
জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুক মিয়া বলেন,‘ নূরুল হক আফিন্দী তার ছোট ভাইকে নির্বাচনে প্রার্থী করেছিলেন। তবে একটা আলোচনা হয়েছে উনার ভাইকে বসানো নিয়ে। তিনি আজ পর্যন্ত  (সোমবার) আমার কোন প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন নি। আমার বড় ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে তিনি আসবেন বলে জানিয়েছেন। জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এসে গণসংযোগ করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও মিলন সাহেব আসবেন বলে জানিয়েছেন।’
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন,‘জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালী উল্লাহ সরকার আমাকে নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষ প্রতীককে জয়ী করার স্বার্থে ন্যুনতম সহযোগিতা করেন না। বরং উল্টো সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী নির্বাচনে তার আপন ছোট ভাই এমদাদুল হক আফিন্দী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করানো হয়েছে। সাচনাবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিন এবং ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর নূর আফিন্দি আমার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অং গ্রহণ না করে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম শামীমের পক্ষে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছেন। আমি দলের উর্দ্বতন নেতাদের অবগত করেছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউপির বিএনপির দলীয় প্রার্থী মহন মিয়া বাচ্ছু বলেন,‘ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে কাজ করছেন। তবে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনও আসেননি। তারা জানিয়েছেন খুব শিঘ্রই জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রচারণায় আসবেন। আমার ও দলের বিপক্ষে গিয়ে বেশ কিছু নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থী রওশন আলীর পক্ষে কাজ করছেন। বিষয়টি উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালী উল্লাহ সরকার বলেন,‘ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক না গেলেও আমাকে না বললে আমি কিভাবে যাবে। আমিতো একা যেতে পারি না।’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক বলেন,‘প্রার্থী মাসুক মিয়া কোনদিন আমাকে বা দলের সভাপতিকে সহযোগিতার কথা বলেন নাই।
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী বলেন,‘আমার ছোট ভাইকে আমি নির্বাচনে দাঁড় করাইনি, সে এলাকাবাসীর অনুরোধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মনে হয় সে সরে যাবে না। আমি তার সাথে এনিয়ে কোন কথা বলিনি। সাচনাবাজার ইউপির দলীয় প্রার্থী আজ পর্যন্ত আমার সাথে কোন কথাই বলেনি। সে মনোনয়ন এনেছে দুর্নীতি ও বাঁকা পথের মাধ্যমে। উপজেলা ও জেলা বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।  তার মনোনয়নের বিষয়ে আমি জানি না। আমার কাছে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের মনোনয়ন বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল। আমি ওই তিনটিতে কাজ করছি। যেহেতু সাচনাবাজার ইউপির মনোনয়ন আমার কাছে দেয়া হয়নি সুতরাং এই ইউনিয়নের প্রচারণার দায়িত্ব আমার নয়। জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এই ইউনিয়নে প্রচারণায় এসেছেন বলে আমার জানা নেই।’
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির আহবায়ক সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সাথে কথা বলতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল সোমবার দুপুর ও বিকালে পর পর বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির প্রথম সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘প্রথম দলীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করে দিচ্ছি। দলীয় প্রার্থীরা জেলা বিএনপির কাছে প্রচারণার বিষয়ে সহায়তা চাইলে সেখানে জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন। বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতারা।