স্টাফ রিপোর্টার
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলায় দ্বিতীয় দফায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপির জনপ্রতিনিধির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারী দলের প্রার্থীদের সাথে দলীয়ভাবে লড়ে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত হয়েছেন।
তৃণমূলের বিএনপির জনপ্রতিনিধিদের এই বিজয়ে জেলার বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা আগের চেয়ে বেশ শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। অনেক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল বিএনপির প্রার্থী।
নির্বাচনী ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার তিন উপজেলার মধ্যে বিএনপি সবচেয়ে ভাল করেছে সদর উপজেলায়। ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে বিদ্রোহিসহ ৪ টিতে বিজয়ী হয়েছে বিএনপির প্রার্থী। আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২টি, জাপা ১টি, স্বতন্ত্র ১টি ও জমিয়তে উলামায়ে ১টি।
উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ধানের শীষ প্রতীকে ৩৯৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. ইয়াকুব বখত জগলুল নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২৭৯০ ভোট।
রঙ্গারচর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল হাই ধানের শীষ প্রতীকে ৩৩৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২৫৬৮ ভোট।
মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নূরুল হক আনারস প্রতীকে ৪৮৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, প্রতিদ্বিন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস সোবহান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪০৮৭ ভোট, এই ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আজমল হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৭২৬ ভোট।
গৌরারং ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী ফুল মিয়া ধানের শীষ প্রতীকে ৬৪৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, প্রতিদ্বিন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হুসেন আলী নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪১২১ ভোট।
মোহনপুর ইউনিয়নে বিজয়ী জাপা প্রার্থী নুরুল হক পেয়েছেন ৩৩৯৩ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মঈন উল হক পেয়েছেন ৩০৪৪ ভোট ও বিএনপির প্রার্থী তাজুদুল ইসলাম পেয়েছেন ২৫০৫ ভোট।
কুরবাননগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বরকত আনারস প্রতীকে ৪৫৭৪ ভোট পেয়ে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, এই ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী কুহিনুর আলম পেয়েছেন ২৬৪৭ ভোট ও বিএনপির প্রার্থী মনফর আলী পেয়েছেন ২৬৩৯ ভোট।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুকসেদ আলী ৪২৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই ইউনিয়নে প্রতিদ্বিন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কাদির আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭১৬ ভোট ও বিএনপির প্রার্থী ওসমান গনী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৩১৫৯ ভোট।
কাঠইর ইউনিয়নে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারে নি বিএনপির প্রার্থী কামরুল ইসলাম, তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩১৭ ভোট। এই ইউনিয়নে জমিয়তে উলামায়ের শামছুল ইসলাম ১৮৭৯ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাড. বুরহান উদ্দিন পেয়েছেন ১১০৭ ভোট ও জাপা প্রার্থী ফারুক মিয়া পেয়েছেন ১৩২৭ ভোট।
একইভাবে সুরমা ইউনিয়নে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে বিএনপি। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আব্দুস ছাত্তার ডিলার ৬৮২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির দলীয় প্রার্থী সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১৮৭১ ভোট।


