জগন্নাথপুর অফিস
দিনমজুর মানিক মিয়া প্রতিদিন জগন্নাথপুর বাজারে দিনমজুরের কাজ করে স্ত্রী সন্তানদের মুখে আহার জোগাতেন। হঠাৎ করে ডাকাতির মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ এনে প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে হাত পা ভেঙ্গে দেয়। এ ঘটনার বিচার চাইতে গেলে পুলিশের এক কর্মকর্তা তার স্ত্রীকে গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দেন। নির্মম হৃদয়বিদারক এসব ঘটনার সুবিচার চেয়ে মানিক মিয়া বাদী হয়ে বুধবার সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সনুয়াখাই গ্রামের ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি সনুয়াখাই গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুল মুকিতকে ৯ জুন পুলিশ সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এরপর থেকে ওই ব্যক্তির স্বজনরা সন্দেহ করতে থাকেন সনুয়াখাই গ্রামের ঠাকুর মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া পুলিশে খবর দিয়ে তাকে ধরিয়ে দিয়েছে। সন্দেহের সূত্র ধরে মানিক মিয়াকে গ্রেফতারকৃত আসামির স্বজনরা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিলেন। নিরুপায় হয়ে নিরাপত্তার জন্য মানিক থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেন। কিন্তু থানায় গিয়ে আর বাড়ি ফিরতে পারেন নি মানিক। ওইদিন বিকালে (১৬ জুন) জগন্নাথপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে খাসিলা গ্রামের ফিসারীর নিকটে পেয়ে ডাকাতির মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামির ভাই আকাশ মিয়ার নেতৃত্বে ৪/৫ জন লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তার (মানিক) হাত পা ভেঙ্গে দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ মানিককে উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা গুরুতর আহত মানিককে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাকালীন সময়ে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে হামলাকারী আকাশের লোকজন তাকে অন্য হাসপাতালে ভর্তি করার কথা বলে হাসপাতাল থেকে বের করে এনে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়।
আহত মানিক মিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন, আমি অত্যন্ত গরিব ও অসহায় মানুষ। আমাকে মিথ্যা অভিযোগে মারধর করে আমার হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আমি এর কোন বিচার পাচ্ছি না। টাকার অভাবে সুচিকিৎসাও করাতে পারছি না।
তিনি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবরে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী শামীমা বেগম বিবাদীদেরকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় এজহার নিয়ে গেলে থানার এস.আই মঈন অভিযোগটি আমলে না নিয়ে তার স্ত্রীকে গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দেন। বিবাদীরা প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য হওয়ায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তার অভিযোগ গায়েব করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আহত মানিকের স্ত্রী শামীমা বেগম দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর কে বলেন,‘পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমার স্বামীকে মিথ্যা অভিযোগ এনে মারধর করে হাত পা ভেঙ্গে আহত করার ঘটনায় আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছি।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয় না আর জগন্নাথপুর হাসপাতালে গেলেও চিকিৎসকরা তার কোন চিকিৎসা করেন না। তাই তার স্বামী আইনি প্রতিকার ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে ঘটনাটি ডিআইজিকে জানিয়ে মানিক আবারও বুধবার ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানান শামীমা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামছুদ্দিন আহমদ জানান,আহত ব্যক্তিকে আমরা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছিলাম। চিকিৎসকরা তাকে এক সপ্তাহ পর আবার ওসমানীতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আমাদের এখানে চিকিৎসা করার কোন সুযোগ না থাকায় আমরা তাকে আবারও ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর থানার ওসি মো. মুরসালিন জানান, থানায় এ ঘটনার কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে আহত ব্যক্তি মঙ্গলবার থানায় এলে তাকে সুস্থ হয়ে এসে অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব বলে আশ্বস্থ করেছি। এছাড়া আর কোন অভিযোগ পাইনি। ডিআইজি বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন কী না জানা নেই।
- রমজানে ভিজিএফ- ১১ উপজেলা ও ৪ পৌরসভায় ৩১৮৬.৬২ মে. টন চাল বরাদ্দ
- দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪০


