মো. আশিক পীর
৬ষ্ঠ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শনিবার ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও জগন্নাথপুর উপজেলার ২৭ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আ.লীগ ১০, আ.লীগ বিদ্রোহী ৯, বিএনপি ৫ ও বিএনপির বিদ্রোহী ২ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এদিকে বিশ্বম্ভরপুরের বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও জাপার প্রার্থীর মধ্যে টাই হয়েছে। তারা দুজনেই প্রত্যেকে ৪০৩০ ভোট পেয়েছেন। তাহিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ৪ বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছেন। এছাড়া বরাবরের মতো এবারও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে অবশেষে ৯টি ইউনিয়নে তারা বিজয় অর্জন করেছেন।
এর আগে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া, সুনামগঞ্জের ২২ ইউনিয়নের ২৭১ কেন্দ্রের বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন ইউনিয়নে সংঘর্ষের
খবর পাওয়া গেছে। ধর্মপাশায় ১ বিজয়ী সদস্যের ছেলে নিহত হয়েছেন। ঐ সংঘর্ষে আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। তাছাড়া তাহিরপুরে নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সারাদিন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে প্রচ- তাপদাহ্ েঅতিষ্ট ছিলেন ভোটাররা। বাইরে ছাতা নিয়ে দাঁড়ানোও ছিল কষ্টের। হাওরাঞ্চলের যেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই, ফ্যান নেই, সেসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করতে হিমসিম খেয়েছেন ভোট গ্রহণকারীরা। কিছু কেন্দ্রে ক্ষমতা প্রদর্শন, জাল ভোট প্রদান, পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটেছে। জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ কর্মী ও বিএনপি’র এজেন্টদের মধ্যে বাকবিত-ার ঘটনায় আধা ঘণ্টা ভোট বন্ধ ছিল, নোয়াগাঁও কেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পুলিশ আটক করে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর ছেড়েছে।
জামালগঞ্জের ভীমখালী, ফেনারবাঁক, বিশ্বম্ভরপুরের ফতেহপুর, পলাশ, বাদাঘাট (দক্ষিণ), ধর্মপাশার চামারদানী ও পাইকুরাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এবং মুঠোফোনে কথা বলে জানা যায়, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কেন্দ্রে জবরদস্তি ও জাল ভোট প্রদানের চেষ্টা ছাড়া বেশিরভাগ কেন্দ্রেই শেষ দফার ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।
ধর্মপাশার চামারদানী ইউনিয়নের চামরদানী কেন্দ্রে সরকার দলীয় প্রার্থী আলমগীর খসরু’র সমর্থকরা ইউনিয়নের চামরদানী কেন্দ্র থেকে বেলা আড়াইটায় অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে ব্যালট পেপারে নিজেরাই সিল মেরেছে বলে এই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেছেন। এই কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদান করা হয়েছে উল্লেখ করে শনিবার বিকাল ৫ টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রভাকর তালুকদার পান্না।
ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ভাটগাঁও কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. ফেরদৌসুর রহমান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোজাম্মেল হক ইকবালের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনায় দুপুরে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থক পল্লব ও আবুল কাশেমের সঙ্গে বিএনপির এজেন্ট আব্দুল খালেকের কথা কাটাকাটি হয় দুপুরে। এক পর্যায়ে এ নিয়ে কেন্দ্রে উত্তেজনা দেখা দিলে এই কেন্দ্রের ভোট আধা ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
প্রিজাইডিং অফিসার দুলন মিয়া জানান, আধাঘণ্টার কম সময় ভোট বন্ধ ছিল, পরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফুজ্জামান কেন্দ্রে এসে ভোট চালু করে গেছেন।
জামালগঞ্জের ভীমখালি ইউনিয়নের অষ্ট্রগ্রাম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় জাপার চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী আহমদসহ ৩ জনকে পুলিশ কিছুক্ষণ আটক করে, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হলে ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের।
ধর্মপাশার সুখাইড় রাজাপুর (উত্তর) ইউনিয়নের জারারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক ইউপি সদস্যের সমর্থকরা জোর করে ভোট কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ, বাদাঘাট দক্ষিণ ও ফতেহ্পুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি বেশি।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘দু’একটি কেন্দ্রে সামান্য কিছু গোলমাল ছাড়া ভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ হয়েছে। তবে প্রচ-ে তাপদাহ্ েকষ্ট পোহাতে হয়েছে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ ভোটারদেরও’।
- নির্বাচনী সহিংসতা মেম্বার পদে পাশ করলেন বাবা সংঘর্ষে ছেলের মৃত্যু, আহত ১০
- ‘ডা. বিবি চৌধুরী ছিলেন বৃটেনে বাঙালি কমিউনিটির একজন অকৃত্রিম বন্ধু’


