স্টাফ রিপোর্টার
আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। পরাধীনতার শৃংখল মুক্তির দিন, অন্ধকার থেকে মুক্তির দিন, অসীম সাহস, শোর্য, বিজয় আর বাঙালি জাতির জীবনের সবচেয়ে গৌরবউজ্জ্বল অর্জনের স্মৃতিবিজড়িত দিন। স্বাধীনতার জন্য যে অকুতোভয় বীর সন্তানেরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, কৃতজ্ঞ জাতি পরম শ্রদ্ধায় আজ স্মরণ করবে সেই মৃত্যুঞ্জয়ী বীর সন্তানদের।
স্বাধীনতার জন্য বাঙালিদের দীর্ঘ সংগ্রামদীপ্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্যদিয়ে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে বিভক্ত স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান গঠনের মাধ্যমে নবাবী শাসনের বিলুপ্তির মাধ্যমে ১৯০ বছরের ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটে। পাকিস্তানী ও বাঙালি দুটি জাতির জাতিগত পরিচয় উপেক্ষা করে শুধুমাত্র ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার উপর ভিত্তি করে ১১০০ মাইলের ব্যবধান থাকা স্বত্বেও পাকিস্তান নামক একটি একক রাষ্ট্র গঠন যে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল তা অচিরেই বুঝতে পারে বাঙালি জাতি। বুঝিয়ে দেয় পাকিস্তানিরা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে চাপিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাংলার মানুষ রক্তের দামে কিনে নেয় মাতৃভাষা বাংলা। পাকিস্তানে আসে গভর্নর ও সামরিক শাসন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অরক্ষিত অবস্থা ১৯৬৬ তে উত্থান ঘটায় ‘৬ দফা’ দাবির, যা ছিল প্রাথমিকভাবে বাংলার মুক্তির সনদ। এরপরে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’, শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হওয়া, ‘এগার দফা’ দাবি, ‘একুশ দফা’ দাবি, উনসত্তরের গন অভ্যুত্থানে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পদত্যাগ ও ইয়াহিয়ার আগমনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে তৎকালীন পাকিস্তানের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিমন্ডল। ইয়াহিয়ার শাসন-শোষন-নির্যাতনে ক্ষুদ্ধ বাঙালি সত্তরের ডিসেম্বরের নির্বাচনে রায় দেয় আওয়ামী লীগ এর পক্ষে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা পেলেও ক্ষমতায় যেতে দেয়া হল না বাঙালিদের। এরই মধ্যে ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষন ও ২৫শে মার্চের গণহত্যা ‘অপারেশন সার্চ’ লাইটের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিরা ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার সূর্য। অনেক রক্ত আর অশ্রুর বিনিময়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত হয়।
আজ মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন জেলা প্রশাসন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা, সুর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকল সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ভবনে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও সালাম গ্রহণ, সকাল ৯টায় শরীরচর্চা প্রদর্শনী, বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা, স্ব স্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গীর্জায়বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা, দুপুর ১.৩০মি. হাসপাতাল, জেলখানা ও শিশু পরিবরে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, বিকাল সাড়ে ৩টায় সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহিলঅ সমাবেশ ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান, জেলা স্টেডিয়ামে কাবাডি প্রতিযোগিতা, বিকাল ৪টায় প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা, সন্ধ্যা ৬টায় শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাড়ে ৬টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও মাসব্যাপী কমূসূচির অংশ হিসেবে সকল উপজেলা ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাধারণ জ্ঞান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, শহরের উল্লেখযোগ্য স্থানসমূহে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভিত্তিক ইতিহাস ভিত্তিক ভ্রাম্যমান চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সরকারি ও বেসরকারি ভবনসমূহে আলোক সজ্জা, বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে শুক্রবার সকাল ১০টায় ডলুরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা, বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গণিত ও রিয়েলিটি শো, বিকাল ৩টায় জেলা স্টেডিয়ামে শুটিং প্রতিযোগিতা।
বিজয় দিবসে এবার তিন দিনের কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে সারা দেশেই অনুষ্ঠিত হবে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনটি উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।


