ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সুযোগ পেলেই কর্ম এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটে চলেন তিনি। দেখার চেষ্টা করেন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোথায় কী সমস্যা আছে। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য পরামর্শ করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ শিক্ষক—শিক্ষার্থীদের সাথে। যদিও তিনি শিক্ষক নন, তবুও বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান যাচাই করতে ক্লাসে থাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে প্রায়ই ক্লাস নেন। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান যাচাই হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হয় ভীন্ন রকম আবহ। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ।
রোববার সকালে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঠশালা গার্লস একাডেমি পরিদর্শনে যান রাসেল আহমদ। এ সময় তিনি অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। শিক্ষার্থীরা মনযোগ দিয়ে সেই পাঠ গ্রহণ করে। রাসেল আহমদের পাঠদানের ছবি ওইদিনই ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। রাসেল আহমদের এমন বিষয় শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রাসেল আহমদ গত ৫ জানুয়ারি ৫ম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১১ সালেও তিনি একই ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন অভিযাত্রীর সভাপতি আতিক ফারুকী বলেন, ‘চেয়ারম্যানের এমন প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অবশ্যই একদিন শিক্ষা ক্ষেত্রে এর সুফল পাওয়া যাবে।’
পাঠশালা গার্লস একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারজানা আক্তার বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি যখন ক্লাসে পড়ান তখন শিক্ষার্থীরা তাঁকে (জনপ্রতিনিধি) নতুনভাবে চিনে ও গ্রহণ করে। প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি যদি স্ব স্ব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর খোঁজ খবর নেন তাহলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে।’
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ বলেন, ‘প্রায়ই আমি আমার এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে পাঠদান করি। এতে করে শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ তৈরি হয় এবং তাদের পড়াশোনার লেভেল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।’
ধর্মপাশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। এই জনপ্রতিনিধি একজন শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তি। তিনি ইতোমধ্যে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে ওই অঞ্চলের পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘এটি একটি ভালো উদ্যোগ। প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিই এভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’


